রাজধানীর মিরপুরে বকেয়া বেতন ও নানা দাবিতে আন্দোলনরত পোশাক শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের তীব্র ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই সংঘর্ষের জেরে যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রো রেল স্টেশন।
আজ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল থেকেই মিরপুর-১১ নম্বর সেকশন এলাকায় শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও পুলিশের সঙ্গে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। পরে ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট (এমআরটি) পুলিশের কন্ট্রোলরুম থেকে মেট্রো রেলের মিরপুর-১১ নম্বর স্টেশনটি বন্ধ রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
নিরাপত্তা নিশ্চিতে এমআরটি পুলিশের জরুরি সিদ্ধান্ত
এমআরটি পুলিশ কন্ট্রোলরুম সূত্রে জানা যায়, সকাল থেকেই মিরপুর-১১ নম্বর সেকশনে পোশাক শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়, যা মুহূর্তেই সহিংস রূপ নেয়। পরিস্থিতি ক্রমেই অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়ায় মেট্রো রেলের সাধারণ যাত্রী ও স্টেশনের সার্বিক সরকারি সম্পদের নিরাপত্তার স্বার্থে স্টেশনটির বাণিজ্যিক কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ।
কন্ট্রোলরুম আরও জানায়, এই সিদ্ধান্তের পর থেকে মিরপুর-১১ নম্বর স্টেশনে কোনো মেট্রো ট্রেন থামছে না এবং কোনো যাত্রী ওঠানামাও করানো হচ্ছে না। তবে উত্তপ্ত পরিস্থিতির কারণে কেবল এই একটি স্টেশনে ট্রেন না থামলেও, মেট্রো রেলের অন্য সব স্টেশনগুলোতে ট্রেন চলাচল ও সার্বিক কার্যক্রম আপাতত সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে। মিরপুর-১১ নম্বর এলাকার পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক ও শান্ত হলে স্টেশনটি পুনরায় যাত্রীদের জন্য খুলে দেওয়া হবে।
রণক্ষেত্র মিরপুর-১১
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেতন বৃদ্ধির দাবিতে সকাল থেকেই পোশাক শ্রমিকরা মিরপুর-১১ নম্বর এলাকায় জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। পুলিশ তাদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া। শ্রমিকরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন এবং পুলিশও তাদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস (টিয়ারশেল) নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষের সময় এলাকার সড়কগুলোতে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়, যার ফলে সাধারণ পথচারী ও মেট্রো রেলের যাত্রীরা চরম ভোগান্তির মুখে পড়েন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মিরপুরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
আশুলিয়ায় ফের দফায় দফায় শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, ৭০ কারখানায় ছুটি