বকেয়া বেতন ও ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ বিভিন্ন দাবিতে তৈরি পোশাক শ্রমিকদের চলমান বিক্ষোভের মুখে আজ মঙ্গলবারও (৩ নভেম্বর) স্বাভাবিক হয়নি সাভার ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলের উৎপাদন কার্যক্রম। সকালে বিভিন্ন কারখানায় শ্রমিকরা কাজে যোগ দিতে এলেও শেষ পর্যন্ত কাজ না করে উৎপাদন বন্ধ রেখে বিক্ষোভ শুরু করেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে হা-মীম ও শারমিন গ্রুপসহ আশপাশের বেশ কয়েকটি বড় পোশাক কারখানা আজকের জন্য ছুটি ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছে।
কাজে এসেও বিক্ষোভ, একে একে বন্ধ হলো কারখানা
শিল্প পুলিশ ও কারখানা সূত্র জানায়, আজ সকালে নির্ধারিত সময়েই শ্রমিকরা সাভার ও আশুলিয়ার বিভিন্ন কারখানায় এসে উপস্থিত হন। তবে কারখানার ভেতরে প্রবেশের পর তাঁরা কাজ শুরু না করে বিভিন্ন দাবিতে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন। শ্রমিকদের শান্ত করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হলে একপর্যায়ে কারখানাগুলোতে বিশৃঙ্খলা ও ভাঙচুর এড়াতে একে একে ছুটি ঘোষণা করতে শুরু করে কর্তৃপক্ষ।
আজ ছুটি ঘোষণা করা প্রধান কারখানাগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- হা-মীম গ্রুপ
- শারমিন গ্রুপ
- অনন্ত গার্মেন্টস
- ডেকো গার্মেন্টস
- নিউ এইজ
- আল-মুসলিম
- সাদিয়া ফ্যাশন
- নিট এশিয়া
‘পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন’—এসপি
আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া আজ দুপুরের দিকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “সকালে কিছু কারখানায় শ্রমিকরা যথারীতি কাজে এসেছিলেন। কিন্তু ভেতরে ঢোকার পর তাঁরা কাজ না করে বিভিন্ন দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন। এমন প্রেক্ষাপটে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং কারখানার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার স্বার্থে অনন্ত, ডেকো, নিউ এইজ, আল-মুসলিম, সাদিয়া ফ্যাশন, নিট এশিয়া, হা-মীম ও শারমিন গ্রুপসহ বেশ কয়েকটি কারখানা আজকের জন্য ছুটি ঘোষণা করেছে।”
তিনি আরও জানান, যেকোনো ধরনের সহিংসতা, ভাঙচুর ও সড়ক অবরোধ ঠেকাতে আশুলিয়া ও সাভারের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ ও শিল্প পুলিশের ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে। যৌথ বাহিনীর কড়া নজরদারিও অব্যাহত রয়েছে।
৩০ হাজার টাকা মজুরির দাবি, শিল্পাঞ্চলে অস্থিরতা
ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ গ্রেডভিত্তিক বৈষম্য দূরীকরণ ও বকেয়া পরিশোধের দাবিতে গত কয়েক দিন ধরেই তৈরি পোশাক শিল্পের (RMG) শ্রমিকরা এই আন্দোলন চালিয়ে আসছেন। এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ঢাকার সাভার ও আশুলিয়া, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ এবং রাজধানীর মিরপুর এলাকার শিল্পাঞ্চলগুলোতে নিয়মিত মিছিল, সমাবেশ ও সড়ক অবরোধের ঘটনা ঘটছে। পুলিশ ও শ্রমিকদের মধ্যকার পাল্টাপাল্টি ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ, কাঁদানে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহারের ফলে বেশ কিছু এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। ইতিমধ্যে বেশ কিছু কারখানায় ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শিল্পাঞ্চলগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ ও যৌথ বাহিনীর টহল জোরদার করা হলেও, শ্রমিকদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অনড় অবস্থানের কারণে উৎপাদন পুরোপুরি সচল করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
আশুলিয়ায় ফের দফায় দফায় শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, ৭০ কারখানায় ছুটি