বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সৌরিকে হত্যা করে তুরাগ নদে ফেলে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তাঁর বাবা কে এম এনায়েতুল করিম। তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে আত্মহত্যা করেনি। তাকে হত্যা করা হয়েছে।’
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বেলা আড়াইটার দিকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গের সামনে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
কে এম এনায়েতুল করিম বলেন, ‘আমার ছেলে দৃঢ় ব্যক্তিত্বের অধিকারী ছিল। সে একটি বাহিনীতে চাকরি করত। সে কখনো আত্মহত্যা করতে পারে না। তাকে হত্যা করা হয়েছে। এরপর এক এলাকা থেকে আরেক এলাকায় নিয়ে মরদেহ ফেলে দেওয়া হয়েছে।’
ঘটনার দিন ২৭ অক্টোবর সারা দিন তাহসিফ তাঁর মায়ের সঙ্গে ছিলেন বলে জানান বাবা। তিনি বলেন, ‘সে তার মাকে নিয়ে কেনাকাটা করেছে, আমার জন্যও কেনাকাটা করেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ঘটনার দিন সন্ধ্যায় দীপ নামে একজন তাকে ডাকলে সে তার মাকে বলে, “আমি দীপের সঙ্গে কথা বলে আসি।” এরপর আর ফিরে আসেনি। তার মা একাধিকবার ব্যক্তিগত নম্বরে ফোন করেছেন, কিন্তু যোগাযোগ করতে পারেননি। পরে রাত একটার পর সে মাকে মেসেজ করে, “আম্মু, আমি বাসায় আসতেছি।”’
তাহসিফের নিখোঁজ হওয়ার পরের ঘটনা বর্ণনা করে তাঁর বাবা বলেন, ‘গতকাল দুপুরের দিকে তুরাগ থানায় গিয়েছিলাম। তারা জানায়, এখনো কোনো খোঁজখবর নেই। পরে বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে দক্ষিণ থানা থেকে ফোন আসে। ওসি সাহেব আমার ও ছেলের নাম-পরিচয় শুনে নিশ্চিত হওয়ার পর জানান, তুরাগ নদে একটি মরদেহ পাওয়া গেছে।’
তিনি বলেন, ‘ভাটিপাড়া থেকে সামনে রাজাবাড়ি ঘাট। ওই এলাকায় আমার ছেলে কখনোই যেত না। তারপরও এমন ঘটনা ঘটে গেল।’
তাহসিফকে কে বা কারা হত্যা করেছে, তা তাঁরা জানেন না উল্লেখ করে কে এম এনায়েতুল করিম বলেন, ‘এটা পুলিশ তদন্ত করে বের করবে।’
বিমানবাহিনীতে তাহসিফের চাকরির বিষয়ে তাঁর বাবা বলেন, শৃঙ্খলাজনিত কারণে তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছিল বলে জানানো হয়। তবে কী ধরনের শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণে তাঁকে বরখাস্ত করা হয়েছিল, তা জানানো হয়নি।
তিনি আরও বলেন, বিমানবাহিনী থেকে চাকরি ছাড়ার পর তাহসিফ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ও নেত্র নিউজে কাজ করেছেন। সর্বশেষ তিনি ভার্গো টোব্যাকো লিমিটেডে কর্মরত ছিলেন। তাঁর ভাষ্য, তাহসিফ ছিলেন নম্র, ভদ্র ও সামাজিক প্রকৃতির। সিনিয়র-জুনিয়র সবার সঙ্গে তাঁর ভালো সম্পর্ক ছিল।
এদিকে ময়নাতদন্ত শেষে বৃহস্পতিবার বেলা আড়াইটার দিকে তাহসিফের মরদেহ ফ্রিজিং ভ্যানে করে নিয়ে যান তাঁর বাবা। উত্তরায় জানাজা শেষে তাঁকে দাফন করার কথা রয়েছে।
তাহসিফের মৃত্যুর কারণ নিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদনে যা জানা গেল