যুক্তরাজ্যে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীকে অনলাইনে যৌন সম্পর্কের প্রলোভন দেখিয়ে দেখা করতে যাওয়ার ঘটনায় ৪১ বছর বয়সী মনজুরুল হককে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। তবে সাজা ঘোষণার আগেই বাংলাদেশে চলে আসায় আপাতত তাঁর দণ্ড কার্যকর করা যাচ্ছে না। আদালতে অনুপস্থিত থাকায় তাঁর বিরুদ্ধে বিচার ও সাজা ঘোষণার কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে তাঁর অনুপস্থিতিতেই।
আদালতের তথ্য অনুযায়ী, ফেসবুকে ‘পপি’ নামে পরিচয় দেওয়া ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীর সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছিলেন মনজুরুল। তবে ওই নামে বাস্তবে কোনো কিশোরী তাঁর সঙ্গে কথা বলছিল না। শিশুদের অনলাইন যৌন নিপীড়ন থেকে সুরক্ষায় কাজ করা একটি স্বেচ্ছাসেবী দলের সদস্য কিশোরীর পরিচয়ে তাঁর সঙ্গে কথোপকথন চালিয়ে যাচ্ছিলেন। পাঁচ থেকে ছয় দিন ধরে চলা সেই কথোপকথনে মনজুরুল যৌন সম্পর্কের উদ্দেশ্যে কথিত কিশোরীকে প্রলুব্ধ করেন। একপর্যায়ে এসেক্সের হারলো এলাকায় দেখা করার পরিকল্পনাও করেন তিনি।
চেমসফোর্ড ক্রাউন কোর্টে মামলার শুনানিতে প্রসিকিউটর গ্যারেথ হিউজ বলেন, মনজুরুল জানতেন, যাঁর সঙ্গে তিনি কথা বলছেন, তাঁর বয়স যুক্তরাজ্যে যৌন সম্পর্কের আইনগত সম্মতির বয়সের নিচে। তা সত্ত্বেও তিনি কথিত কিশোরীকে তাঁদের কথোপকথন গোপন রাখার প্রস্তাব দেন। আলাপচারিতার একপর্যায়ে তিনি জানতে চান, ওই কিশোরী তাঁকে চুমু দিতে, জড়িয়ে ধরতে কিংবা তাঁর সঙ্গে যৌন সম্পর্কে জড়াতে আগ্রহী কি না।
আদালতে উপস্থাপিত তথ্যে আরও উঠে আসে, হারলোতে দেখা হওয়ার পর কিশোরীকে নিজের বোনের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন মনজুরুল। সে সময় তাঁর বোন ছুটিতে থাকায় বাড়িটি ফাঁকা থাকার কথা ছিল। প্রসিকিউটরের বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁদের কথোপকথন থেকে বোঝা যায়, দেখা করার পর কিশোরীর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের পরিকল্পনা ছিল তাঁর। কিন্তু নির্ধারিত স্থানে পৌঁছে কোনো কিশোরীর বদলে স্বেচ্ছাসেবী দলের সদস্যদের সামনে পড়েন তিনি। ফলে তাঁর পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়নি।
যুক্তরাজ্যে ১৬ বছরের কম বয়সী কারও সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন আইনত অপরাধ। মামলাটিতে কথিত কিশোরীর বয়স ছিল ১৩ বছর।
শুনানিতে মনজুরুলের আইনজীবী রেবেকা লি আদালতকে জানান, ২০২৩ সালের নভেম্বরে অসুস্থ বাবার দেখাশোনার জন্য বাংলাদেশে যাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন তাঁর মক্কেল। বিচার শুরুর আগে যোগাযোগ করা হলে মনজুরুল নিজের অনুপস্থিতিতেই বিচার চালানোর বিষয়ে সম্মতি দিয়েছিলেন। পরে জুরি বোর্ড তাঁকে অনলাইনে যৌন উদ্দেশ্যে প্রলুব্ধ করার পর শিশুর সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা-সংক্রান্ত অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে। দোষী সাব্যস্ত হওয়ার বিষয়টি তাঁকে জানানোও হয়েছিল।
আসামিপক্ষের আইনজীবী আরও বলেন, মনজুরুলের আগে কোনো অপরাধে দণ্ডিত হওয়ার নজির নেই। তাঁর মোবাইল ফোনেও শিশুদের কোনো অশ্লীল ছবি পাওয়া যায়নি। তিনি কর্মজীবনে নিয়োজিত ছিলেন এবং ভবিষ্যতেও কাজ করার সুযোগ রয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সাজা নির্ধারণের আবেদন জানান তিনি।
তবে বিচারক ক্রিস্টোফার মরগান বলেন, মনজুরুলের সঙ্গে কথিত কিশোরীর কথোপকথন স্পষ্টতই যৌন প্রকৃতির ছিল। তিনি বিশ্বাস করতেন, একজন প্রকৃত শিশুর সঙ্গেই যোগাযোগ করছেন এবং তাঁর উদ্দেশ্য ছিল ওই শিশুর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করা। বিচারকের মতে, সেখানে সত্যিকারের কোনো শিশু উপস্থিত থাকলে মনজুরুল তাঁর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতেন—এমনটি বিশ্বাস করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে।
বিচারক আরও জানান, বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাজ্যে আর ফিরবেন না বলে যোগাযোগের মাধ্যমে মনজুরুল স্পষ্ট করেছিলেন। ওই বছরের আগস্টে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত জানানো হলে তিনি সাজা ঘোষণার শুনানিতে উপস্থিত থাকার কথা বলেছিলেন। কিন্তু নির্ধারিত দিনে আদালতে হাজির হননি। পরবর্তী সময়ে পাঠানো ইমেইলেরও কোনো জবাব দেননি তিনি।
সব মিলিয়ে, যুক্তরাজ্যের আদালতে দোষী সাব্যস্ত হয়ে কারাদণ্ড পেলেও বাংলাদেশে অবস্থান করায় মনজুরুল হকের সাজা এখনই কার্যকর করা যাচ্ছে না।
আজ জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, সফর সঙ্গী হচ্ছেন যারা