বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সৌরির মোটরসাইকেল গাজীপুরের টঙ্গী থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকালে টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকা থেকে মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়।
এর আগে তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর ব্যবসায়িক অংশীদার ও এলাকার ছোট ভাই আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দ্বীপকে হেফাজতে নেয় পিবিআই। মরদেহ উদ্ধারের আগের দিন রাতে দ্বীপের সঙ্গে কয়েক ঘণ্টা সময় কাটিয়েছিলেন তাহসিফ।
গত বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাতে তথ্য সংগ্রহের জন্য দ্বীপকে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানার বাবর রোডের বি ব্লকের একটি বাসা থেকে পিবিআইয়ের ঢাকা মেট্রো উত্তরের কার্যালয়ে নেওয়া হয়।
পিবিআইয়ের মিডিয়া কর্মকর্তা পুলিশ সুপার মো. আবু ইউসুফ সময় সংবাদকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘যেহেতু দ্বীপ ও তাহসিফ অনেকটা সময় একসঙ্গে পার করেছেন, সে কারণেই কিছু তথ্য সংগ্রহে তাঁকে হেফাজতে নেওয়া হয়।’
এর আগে গত বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে তুরাগ নদ থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার করে টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ি।
নৌ-পুলিশ জানায়, বুধবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে রাজাবাড়ী ঘাটসংলগ্ন তুরাগ নদে একটি মরদেহ ভাসতে থাকার খবর দেওয়া হয়। পরে টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে। নিহতের পকেটে থাকা আইফোনে একটি কল এলে ফোনের মাধ্যমে তাঁর পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় মায়ের সঙ্গে কেনাকাটা শেষে বাসায় ফেরেন তাহসিফ। কিছু সময় পর দ্বীপ নামে এক সহকর্মীর সঙ্গে দেখা করার কথা বলে আবার বাসা থেকে বের হন তিনি। পরদিন ২৮ অক্টোবর ‘আম্মু আমি আসছি’ লিখে শেষ একটি খুদে বার্তা পাঠালেও আর বাড়ি ফেরেননি।
এদিকে তাহসিফের বাসার একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টা ২৪ মিনিটে দ্বীপ একটি মোটরসাইকেল নিয়ে তাহসিফের বাসার নিচের গ্যারেজে আসেন। সেখানে প্রথমে মোটরসাইকেলে নিজের হেলমেট রাখেন তিনি। এরপর পাশে দাঁড়িয়ে পোশাক দিয়ে চোখ-মুখ মুছতে দেখা যায় তাঁকে। কিছুক্ষণ পর বাসা থেকে নেমে গ্যারেজে আসেন তাহসিফ। পরে দ্বীপের সঙ্গে হাত মেলান। সন্ধ্যা ৬টা ৩১ মিনিটে দুজনকে দুটি মোটরসাইকেলে করে সেখান থেকে চলে যেতে দেখা যায়।
সুরতহাল প্রতিবেদনে বলা হয়, উদ্ধার হওয়া মরদেহটি তাহসিফের খালাতো ভাই জহির হাসান শনাক্ত করেন। তাঁর উচ্চতা আনুমানিক ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি। কপাল স্বাভাবিক ও মুখমণ্ডল গোলাকার ছিল। মুখ ও চোখ বন্ধ থাকলেও মুখে ছোট কালো দাড়ি-গোঁফ ছিল। দুই হাত মাথার সামনের দিকে বাঁকানো অবস্থায় পাওয়া যায়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, তাহসিফের নাক দিয়ে রক্ত বের হচ্ছিল। তবে শরীরের অন্য কোথাও আঘাতের দৃশ্যমান চিহ্ন পাওয়া যায়নি। শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ স্বাভাবিক ছিল। হাতের মুষ্টি খোলা থাকলেও পেট ফোলা ছিল বলে সুরতহাল প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন প্রস্তুতকারী কর্মকর্তা।
তাহসিফের লাশ উদ্ধার: জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিলেন দীপ