যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য এক সপ্তাহব্যাপী বোমা হামলার অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনের পর এ অভিযান চালানো হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্ভাব্য হামলায় ইরানের নেতৃত্ব, পারমাণবিক স্থাপনা, জ্বালানি অবকাঠামো ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।
তবে নতুন করে বড় ধরনের সংঘাত এড়াতে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে উপসাগরীয় দেশগুলো। সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) সংযম প্রদর্শন ও রাজনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে। অন্যদিকে, কাতার তেহরান ও ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যে সমঝোতা প্রতিষ্ঠার শেষ মুহূর্তের চেষ্টা চালাচ্ছে। একই সময়ে ওয়াশিংটনকে আলোচনার জন্য আরও সময় দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সৌদি আরব।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য সাত দিনের সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কর্মকর্তারা। তবে এ বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি।
বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) পৃথক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটন মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি মিত্র দেশকে নতুন করে সামরিক অভিযান এবং এর জবাবে ইরানের সম্ভাব্য পাল্টা হামলার বিষয়ে সতর্ক করেছে। এসব পাল্টা হামলায় জ্বালানি স্থাপনা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতি ও সমন্বয় নিয়ে গত সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারের সঙ্গে কথা বলেছেন ইসরায়েলের সেনাপ্রধান জেনারেল ইয়াল জামির।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান ‘শেষ করার’ অঙ্গীকার করেছেন। তাঁর বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, তেহরানের পারমাণবিক ও সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করাই ইসরায়েলের একমাত্র লক্ষ্য নয়।
গত ২০ অক্টোবর দেওয়া বক্তব্যে নেতানিয়াহু বলেন, অভিযান সম্পন্ন করার অর্থ হলো ইরানের নেতৃত্বের পতন ঘটানো। দেশটির সরকার পরিবর্তনকে (রেজিম চেঞ্জ) ইসরায়েলের প্রধান লক্ষ্য হিসেবেও উল্লেখ করেন তিনি। এ বিষয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা করেছেন বলেও জানান নেতানিয়াহু। তবে ওয়াশিংটন এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সম্মত হয়েছে, এমন কোনো নিশ্চয়তা এখনো পাওয়া যায়নি।
এদিকে, দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচনের পর সম্ভাব্য স্বল্পমেয়াদি কিন্তু তীব্র সামরিক অভিযানের জন্য প্রস্তুত থাকতে উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশকে সতর্ক করেছে ওয়াশিংটন।
পেন্টাগনও ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি জোরদার করেছে। এর অংশ হিসেবে ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট বিমানবাহী রণতরি এবং মেরিন সেনা বহনকারী উভচর অবতরণকারী যুদ্ধজাহাজ আরব উপসাগরের দিকে পাঠানো হয়েছে।
এপি জানিয়েছে, এ মোতায়েনে প্রায় ৯ হাজার সামরিক সদস্য রয়েছেন। এর ফলে ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী ও মেরিন সেনার মোট উপস্থিতি ২০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে। এসব সেনাকে কয়েক শ সামরিক উড়োজাহাজ সহায়তা দেবে।
এদিকে পেন্টাগনের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের অধীনে কৌশল, পরিকল্পনা ও নীতিনির্ধারণবিষয়ক দায়িত্বে থাকা জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল ব্রেট সিলভিয়াকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ।
সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিলভিয়াকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে কোনো কারণ জানানো হয়নি। ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের প্রস্তুতির মধ্যেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।
তাহসিফের লাশ উদ্ধার: জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিলেন দীপ