রাজধানীর তুরাগে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিত্তবান পুরুষদের জিম্মি করে অর্থ আদায়ের অভিযোগে একটি চক্রের সন্ধান পেয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। চক্রটির নারী সদস্যরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া পরিচয়ে সম্পর্ক গড়ে তুলতেন। পরে নির্দিষ্ট বাসা বা হোটেলে ডেকে নিয়ে ভুক্তভোগীদের জিম্মি করে ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা আদায় করা হতো।
রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিবিপ্রধান ও অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম।
তিনি বলেন, চক্রটির সদস্যরা মূলত মধ্যবয়সী ও বয়স্ক ব্যবসায়ীসহ বিত্তবান পুরুষদের লক্ষ্যবস্তু করতেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে প্রথমে তাঁদের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলা হতো। পরে নানা কৌশলে নির্ধারিত বাসা কিংবা হোটেলের কক্ষে নিয়ে যাওয়া হতো তাঁদের। সেখানে চক্রের পুরুষ সদস্যরা ভুক্তভোগীদের আটকে রেখে ভয় দেখানোর পাশাপাশি শারীরিক নির্যাতন করতেন।
ডিবিপ্রধানের ভাষ্য অনুযায়ী, ভুক্তভোগীদের আপত্তিকর অবস্থার ছবি ও ভিডিও ধারণ করত চক্রটি। পরে এসব ছবি ও ভিডিও প্রকাশের ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় করা হতো। একবার টাকা নেওয়ার পরও ব্ল্যাকমেইল বন্ধ করতেন না সদস্যরা। বরং নতুন করে হুমকি দিয়ে বারবার অর্থ দাবি করা হতো।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি এড়াতে চক্রটির সদস্যরা নিয়মিত নিজেদের বাসা ও আস্তানা পরিবর্তন করতেন। যোগাযোগের ক্ষেত্রেও তাঁরা ভুয়া নামে নিবন্ধিত সিমকার্ড এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করতেন বলে জানান শফিকুল ইসলাম।
সংবাদ সম্মেলনে নগরবাসীকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন ডিবিপ্রধান। প্রতারণা কিংবা ব্ল্যাকমেইলের শিকার হলে দ্রুত পুলিশকে অবহিত করার আহ্বান জানান তিনি। এ ধরনের অপরাধ দমনে গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান ডিবিপ্রধান।
আজ জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, সফর সঙ্গী হচ্ছেন যারা