বিশ্বজুড়ে ইলন মাস্কের স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট সেবা স্টারলিংক জনপ্রিয়তা পেলেও ভারতে এর বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করার পথ এখনো বাধামুক্ত নয়। নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ, নিয়ন্ত্রক সংস্থার দীর্ঘ পর্যালোচনা এবং স্পেকট্রাম ব্যবহারের মূল্য নির্ধারণসহ বিভিন্ন জটিলতায় প্রতিষ্ঠানটি পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক লাইসেন্স পেতে বিলম্বের মুখে পড়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশে স্টারলিংকের ডিরেক্ট-টু-সেল (ডিটুসি) সেবা চালু ও এর কার্যক্রম সম্প্রসারণের বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে।
নিরাপত্তা ও অবৈধ টার্মিনার ব্যবহারের উদ্বেগ
ভারতে স্টারলিংকের প্রবেশের ক্ষেত্রে বড় উদ্বেগের জায়গা হয়ে উঠেছে এর টার্মিনালের অবৈধ ব্যবহার। মণিপুরে নিষিদ্ধ একটি সংগঠনের কাছ থেকে সচল স্টারলিংক টার্মিনাল উদ্ধারের ঘটনা এবং আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে মাদক পাচারের একটি মামলায় ‘স্টারলিংক মিনি’ ব্যবহারের তথ্য নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে অপব্যবহারের অভিযোগ
ভারতের বাইরেও বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে স্টারলিংক সরঞ্জামের অপব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। সুদান, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধক্ষেত্র, মিয়ানমারের সাইবার প্রতারণা চক্র এবং ইয়েমেনে বিধিনিষেধ এড়িয়ে কালোবাজারের মাধ্যমে স্টারলিংক কিট ব্যবহারের অভিযোগ সামনে এসেছে। এসব ঘটনা বিবেচনায় নিয়ে ভারতের নীতিনির্ধারকেরা সেবাটির নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা নিয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন।
টার্মিনালের অবস্থান শনাক্তের ঝুঁকি
গোপনে ব্যবহৃত স্টারলিংক টার্মিনালের অবস্থান শনাক্ত করার সম্ভাবনা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মোবাইল অ্যাডভারটাইজিং আইডি (এমএআইডি) ব্যবহার করে গোপন টার্মিনালের অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে। এ ধরনের প্রযুক্তিগত ঝুঁকি ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকেরা।
স্পেকট্রাম মূল্য নিয়ে বিরোধ
নিরাপত্তার পাশাপাশি স্পেকট্রাম ব্যবহারের মূল্য নির্ধারণ ও সরকারি অনুমোদনপ্রক্রিয়াও স্টারলিংকের বাণিজ্যিক যাত্রায় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ বিষয়ে দীর্ঘ পর্যালোচনার কারণে লাইসেন্স পাওয়ার প্রক্রিয়া এগোতে সময় লাগছে।
এদিকে ইলন মাস্কের অভিযোগ, ভারতের দেশীয় টেলিকম প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের বাজারে একচেটিয়া আধিপত্য বজায় রাখতে প্রভাব খাটিয়ে স্টারলিংকের প্রবেশ বিলম্বিত করছে। তবে ভারত সরকার এ অভিযোগ নাকচ করে জানিয়েছে, অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মতো স্টারলিংককেও প্রচলিত নিয়ম ও নিয়ন্ত্রক প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই অনুমোদন নিতে হবে।
নিরাপত্তা, নীতিমালা ও ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতা—এই তিনটি বিষয়ই ভারতে স্টারলিংকের বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরুর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা সম্প্রসারণ করলেও ভারতের বাজারে প্রবেশের জন্য প্রতিষ্ঠানটিকে এখনো একাধিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে।
আজ জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, সফর সঙ্গী হচ্ছেন যারা