Morning Times
সাম্প্রতিক
সদ্যআজ জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, সফর সঙ্গী হচ্ছেন যারা সদ্যমধ্যবর্তী নির্বাচনে হারলে কি ক্ষমতা হারাবেন ট্রাম্প? সদ্যইরানে যে কোনো মুহূর্তে বড় ধরনের মার্কিন হামলা! সদ্যসৌদির দুই রুটে ফ্লাইট স্থগিত ৪ নভেম্বর পর্যন্ত সদ্যতত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই আগামী নির্বাচন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সদ্যমোহাম্মদপুরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা গ্রেপ্তার সদ্যপাঠ্যবই থেকে দাঁড়িপাল্লার ছবি বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত সদ্যবিত্তবান ব্যবসায়ীদের ফাঁদে ফেলত হানিট্র্যাপ চক্র সদ্যবিমানবন্দরে যাত্রীর ব্যাগে ২ কোটি ৮০ লাখ টাকার স্বর্ণের চুড়ি উদ্ধার সদ্য৭৫ হাজার টাকার শাড়ির মামলা, তানজিন তিশার বিরুদ্ধে তদন্তে সিআইডি সদ্যআজ জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, সফর সঙ্গী হচ্ছেন যারা সদ্যমধ্যবর্তী নির্বাচনে হারলে কি ক্ষমতা হারাবেন ট্রাম্প? সদ্যইরানে যে কোনো মুহূর্তে বড় ধরনের মার্কিন হামলা! সদ্যসৌদির দুই রুটে ফ্লাইট স্থগিত ৪ নভেম্বর পর্যন্ত সদ্যতত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই আগামী নির্বাচন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সদ্যমোহাম্মদপুরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা গ্রেপ্তার সদ্যপাঠ্যবই থেকে দাঁড়িপাল্লার ছবি বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত সদ্যবিত্তবান ব্যবসায়ীদের ফাঁদে ফেলত হানিট্র্যাপ চক্র সদ্যবিমানবন্দরে যাত্রীর ব্যাগে ২ কোটি ৮০ লাখ টাকার স্বর্ণের চুড়ি উদ্ধার সদ্য৭৫ হাজার টাকার শাড়ির মামলা, তানজিন তিশার বিরুদ্ধে তদন্তে সিআইডি
ট্রেন্ডিং ক্রিকেট চলচ্চিত্র জলবায়ু ফুটবল শিক্ষানীতি শেয়ারবাজার
মর্নিং টাইমস ডেস্ক ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ২:৫৬ পিএম
আপডেট: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ৫:৫৭ পিএম

সচিবালয় স্থানান্তরের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদন

সচিবালয় স্থানান্তরের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদন
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকার শেরেবাংলা নগরে নতুন বাংলাদেশ সচিবালয় নির্মাণের প্রস্তাবে নীতিগত সম্মতি দিয়েছে মন্ত্রিসভা। একই বৈঠকে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নাম বদলে ‘নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়’ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ ছাড়া ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের জন্য বিশেষ অধ্যাদেশের খসড়া এবং বিপজ্জনক রাসায়নিক ও কীটনাশকের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণবিষয়ক রটারডাম কনভেনশনে বাংলাদেশের যোগ দেওয়ার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে।

রোববার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ২৫তম বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বর্তমান সচিবালয়ে জায়গার সংকট, ভবনগুলোর ভূমিকম্পসহনশীলতার ঘাটতি এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য উপযুক্ত কর্মপরিবেশের অভাব বিবেচনায় শেরেবাংলা নগরের পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে নতুন সচিবালয় নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের ভিত্তিতে এ উদ্যোগে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, লুই আই কানের মাস্টারপ্ল্যান অনুসরণ করে প্রায় ৩১ দশমিক ৫৮ একর জমিতে নতুন সচিবালয় গড়ে তোলা হবে। প্রস্তাবিত নকশায় তিনটি বেজমেন্টসহ ১৪টি ১২ তলা ভবন নির্মাণের কথা রয়েছে। এসব ভবনে মোট প্রায় ৩৩ লাখ ১৬ হাজার বর্গফুট অফিসের জায়গা পাওয়া যাবে।

নতুন কমপ্লেক্সে গাড়ি রাখার জন্য ৩ হাজার ৮০০টি পার্কিংয়ের স্থান রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে ২০০টি থাকবে মাটির ওপর। পাশাপাশি নির্মাণ করা হবে একটি মসজিদ, ৩৫০ জন করে ধারণক্ষমতার দুটি বহুমুখী হল, একটি ক্যাফেটেরিয়া ও একটি ডাকঘর। প্রকল্প এলাকার প্রায় ৩০ শতাংশ জায়গা সবুজায়ন ও জলাধারের জন্য বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনাও রয়েছে।

গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবে বর্তমান সচিবালয়ের অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। বর্তমানে ১৭ দশমিক ৫৭ একর জায়গাজুড়ে সচিবালয়ের ১৩টি ভবন রয়েছে। এর মধ্যে আটটি ভবন স্বাধীনতার আগে নির্মিত। ১, ২, ৩ ও ৮ নম্বর পুরোনো ভবন নির্মিত হয়েছিল ১৯৩৭ থেকে ১৯৩৯ সালের মধ্যে। ৫ নম্বর ভবনটি নির্মাণ করা হয় ১৯৪৭ সালে।

প্রস্তাবে বলা হয়েছে, এসব পুরোনো ভবন ভূমিকম্প সহনশীলতার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে নির্মাণ করা হয়নি। ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে থাকা ঢাকা শহরে এ ধরনের ভবনে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কার্যক্রম পরিচালনা নিরাপত্তার দিক থেকে উদ্বেগজনক।

এ ছাড়া বর্তমান ভবনগুলোতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রয়োজনের তুলনায় অফিসের জায়গা ও ওয়াশ-ব্লকের ঘাটতি রয়েছে। এতে স্বাভাবিক ও স্বাস্থ্যকর কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

বর্তমান সচিবালয়ে অফিসের জায়গা রয়েছে প্রায় ১৮ লাখ ৭৬ হাজার বর্গফুট। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের বাড়তি চাহিদা পূরণের পাশাপাশি সচিবালয় কমপাউন্ডের বাইরে থাকা মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে একই স্থানে আনার জন্য আরও ১০ লাখ বর্গফুটের বেশি জায়গা প্রয়োজন বলে প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানেই নতুন সচিবালয় নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নাম পরিবর্তন করে ‘নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়’ করার প্রস্তাবেও সম্মতি দিয়েছে মন্ত্রিসভা। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে উত্থাপিত প্রস্তাবটি অনুমোদনের মধ্য দিয়ে নাম পরিবর্তনের পরবর্তী প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার পথ তৈরি হয়েছে।

জীবাশ্ম জ্বালানির আমদানিনির্ভরতা কমানো, বিদ্যুৎ খাতে সরকারি ভর্তুকির চাপ হ্রাস এবং জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করতে ‘বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন অধ্যাদেশ, ২০২৬’-এর খসড়ায় নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। তবে লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের ভেটিং সম্পন্ন হওয়ার পর অধ্যাদেশটি কার্যকরের চূড়ান্ত প্রক্রিয়া এগোবে।

সরকারের ‘জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র ২০২৬-২০৩০’-এর আওতায় আগামী গ্রীষ্মের আগেই ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার মেগাওয়াট ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে ইতিমধ্যে প্রণোদনা দেওয়ার ঘোষণাও এসেছে।

পরিকল্পনা অনুসারে, সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সরকারি কোম্পানির ভবনের ছাদেও সৌরবিদ্যুৎব্যবস্থা স্থাপন করা হবে। এ ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীর অর্থায়নে অপারেশনাল এক্সপেনডিচার বা ওপেক্স মডেল ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নিজস্ব আয়ের উৎস রয়েছে—এমন প্রতিষ্ঠানগুলো ভবিষ্যৎ আয় বিবেচনায় ক্যাপিটাল এক্সপেনডিচার বা ক্যাপেক্স মডেলেও সৌরবিদ্যুৎব্যবস্থা স্থাপন করতে পারবে।

প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ওপেক্স মডেলে সেবা প্রদানকারীর মাধ্যমে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যুৎ ব্যবহারের মূল্য নির্ধারণ, ছাদ ব্যবহারের বিনিময়ে বিদ্যুতের অংশ প্রদান এবং রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে পর্যাপ্ত সুনির্দিষ্ট বিধান নেই। এ ধরনের চুক্তির মেয়াদ ১৫ বছর পর্যন্ত হতে পারে।

অন্যদিকে, ক্যাপেক্স মডেলে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন ও সংশ্লিষ্ট সেবা গ্রহণের বিষয়ে সরকারি ক্রয় আইন, ২০০৬, ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, ২০২৬ এবং বিদ্যুৎ আইন, ২০১৮-তে প্রয়োজনীয় সুনির্দিষ্ট বিধানের ঘাটতি রয়েছে বলে প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিদ্যমান আইনি সীমাবদ্ধতা দূর করে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন, বিদ্যুৎ ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষেত্রে স্পষ্ট নিয়মকানুন তৈরিই নতুন অধ্যাদেশের মূল উদ্দেশ্য।

বিপজ্জনক রাসায়নিক ও কীটনাশকের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ এবং এগুলোর নিরাপদ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে রটারডাম কনভেনশনে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে প্রস্তাবটি উত্থাপন করা হয়েছিল।

কনভেনশনটির পূর্ণ নাম ‘রটারডাম কনভেনশন অন দ্য প্রায়র ইনফর্মড কনসেন্ট প্রসিডিউর ফর সার্টেন হ্যাজার্ডাস কেমিক্যালস অ্যান্ড পেস্টিসাইডস ইন ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড’। এতে যোগ দিলে বিপজ্জনক, নিয়ন্ত্রিত ও নিষিদ্ধ রাসায়নিকের আমদানি-রপ্তানি এবং ব্যবস্থাপনায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।

১৯৯৮ সালের ১০ সেপ্টেম্বর গৃহীত এই কনভেনশন কার্যকর হয় ২০০৪ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি। এখন পর্যন্ত ১৬৭টি দেশ এতে সদস্য হিসেবে যুক্ত হয়েছে। দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা—সার্কের সদস্যদেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ ও ভুটান ছাড়া বাকি দেশগুলো কনভেনশনটি অনুমোদন করেছে অথবা এতে যোগ দিয়েছে।

কনভেনশনে যুক্ত হলে বিপজ্জনক রাসায়নিক ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রকল্পে বৈদেশিক অর্থায়ন পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। একই সঙ্গে রাসায়নিকের তথ্যভান্ডার গড়ে তোলা এবং এসব পদার্থের আমদানি, রপ্তানি ও চলাচল পর্যবেক্ষণের সুযোগ বাড়বে।

কনভেনশনের সংযুক্তি-৩-এ তালিকাভুক্ত রাসায়নিকের ক্ষেত্রে পূর্ব সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়া যাবে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে আমদানিকারক ও রপ্তানিকারক দেশগুলোর মধ্যে দায়িত্ব ভাগাভাগি এবং সমন্বয় জোরদার হবে।

কনভেনশনের ১৪ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সদস্যদেশগুলোর সঙ্গে বিপজ্জনক রাসায়নিক ও কীটনাশকসংক্রান্ত বৈজ্ঞানিক, প্রযুক্তিগত, অর্থনৈতিক এবং আইনি তথ্য বিনিময় করতে পারবে বাংলাদেশ। এ ছাড়া সদস্যদেশ ও কনভেনশন সচিবালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে। ১৬ নম্বর অনুচ্ছেদের আওতায় রাসায়নিক ব্যবস্থাপনায় কারিগরি সহায়তাও নেওয়া সম্ভব হবে।

মন্তব্য (0)

0%
15.4%
15.4%
★69.2%
সাইন-ইন

মন্তব্য প্রকাশের আগে মডারেশন পাস করবে।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!

সর্বশেষ
জনপ্রিয়