পতিত স্বৈরাচার ও একটি রাজনৈতিক পক্ষ একজোট হয়ে দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ বিষয়ে সরকারের কাছে গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে দাবি করে তিনি দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে রাজশাহীর হাজী মুহাম্মদ মহসীন উচ্চবিদ্যালয় মাঠে বিএনপির জনসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, ‘করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’—এই স্লোগান ও নীতিতে যারা বিশ্বাস করে না, তারাই ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। দেশের কয়েকটি স্থানে কলকারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ তৈরির চেষ্টার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া স্বৈরাচার বিদেশ থেকে একটি রাজনৈতিক দলকে অর্থ সহায়তা দিচ্ছে। তাঁর দাবি, এক পক্ষ সীমান্তের ওপার থেকে অর্থ জোগাচ্ছে, আর অন্য পক্ষ দেশের ভেতরে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। নির্বাচনের আগে জনগণকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভিন্ন টিকিট বিক্রির চেষ্টার অভিযোগও তোলেন তিনি।
দেশের মানুষকে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, কেউ যাতে আর দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের যে উদ্যোগ শুরু হয়েছে, তা যেন কেউ বাধাগ্রস্ত করতে না পারে, সেদিকেও নজর রাখার আহ্বান জানান তিনি।
এক বছরে আরও ৪৬ কারখানা চালুর উদ্যোগ
বেকারত্ব কমাতে বন্ধ কলকারখানা পুনরায় চালুর পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠনের পর রাজশাহীর বন্ধ কারখানার মালিক, ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। তাঁদের কারখানাগুলো আবার চালু করতে উৎসাহিত করা হয়েছে।
তারেক রহমানের ভাষ্য, গত সাত মাসে ছয়টি কলকারখানা চালু করা হয়েছে। আগামী জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর এই ১২ মাসে দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও প্রায় ৪৬টি বন্ধ কারখানা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য বেকার শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা।
উপজেলা হাসপাতালে শয্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা
আগামী পাঁচ বছরে দেশের প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা ৫০ থেকে বাড়িয়ে ১০০ করার সিদ্ধান্তের কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি শিশু ও নারীদের জন্য পৃথক শয্যা এবং কিডনি রোগীদের ডায়ালিসিস সুবিধা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
তারেক রহমান আশা প্রকাশ করেন, এসব ব্যবস্থা কার্যকর হলে সাধারণ রোগের চিকিৎসার জন্য গ্রামের মানুষকে আর শহরমুখী হতে হবে না।
৩৮ হাজার আখচাষিকে ১২ কোটি টাকা প্রণোদনা
জনসভার শুরুতে রাজশাহী অঞ্চলের ৩৮ হাজার ৯৭০ জন আখচাষির জন্য ১২ কোটি টাকা প্রণোদনা বিতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। কম্পিউটারে বোতাম চেপে চাষিদের মুঠোফোনের হিসাবে অর্থ পাঠানোর কার্যক্রম উদ্বোধন করেন তিনি। এ সময় ১৫ জন আখচাষির হাতে চেকও তুলে দেন তারেক রহমান।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় বক্তব্য দেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এবং রাজশাহী জেলার সংসদ সদস্যরা। জেলার বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী সমাবেশে যোগ দেন।
এর আগে দুপুর ২টা ৫০ মিনিটে সামরিক বিমানে শাহ মখদুম বিমানবন্দরে পৌঁছান তারেক রহমান। রাজশাহীতে আসার আগে তিনি রংপুরের ধর্মসভা মন্দিরে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন।
আজ জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, সফর সঙ্গী হচ্ছেন যারা