বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে নির্বাচনে কারচুপি ও বিপুল অর্থ লুটপাটের অভিযোগ তুলেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম। তিনি দাবি করেছেন, দেশ থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করে শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে গেছেন। নিজের সম্পদের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ঢাকায় তাঁর নিজের কোনো বাড়ি নেই, অথচ তাঁদের একজন সংসদ সদস্য জাবেদের বিদেশেই সাড়ে চার শ বাড়ি রয়েছে।
বুধবার বিকেলে ভোলার তজুমদ্দিনে উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ায় তাঁকে এ সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একমাত্র শেখ হাসিনাই কারচুপি করে ক্ষমতায় টিকে ছিলেন। শেষমেশ দেশ থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করে তিনি ভারতে পালিয়ে গেছেন। আমরা এ ধরনের রাজনীতি করিনি; ঢাকায় আমার নিজের কোনো বাড়ি নেই, অথচ তাদের জাবেদ নামের এক এমপির বিদেশেই সাড়ে চারশত বাড়ি রয়েছে।’
রাজনীতির নামে কীভাবে সম্পদ গড়ে তোলা হয়েছে, তা জনগণের সামনে তুলে ধরতেই এসব উদাহরণ দিয়েছেন বলে মন্তব্য করেন স্পিকার। তাঁর ভাষায়, এসব ঘটনা জানলে মানুষ বুঝতে পারবে, দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে লুটপাট করে একটি গোষ্ঠী কীভাবে নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তন করেছে।
বিগত সরকারের সমালোচনা করে হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রায় ২০ বছর আগে তিনি সংসদ সদস্য থাকার পর থেকেই কারচুপির নির্বাচনের সূচনা হয়। সে সময় তজুমদ্দিনে মাদকের বিস্তার ছিল না বলে উল্লেখ করে তিনি অভিযোগ করেন, গত ১৫ বছরে এলাকার ঘরে ঘরে মাদক ছড়িয়ে পড়েছে। আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধেও মাদক সেবনের অভিযোগ তোলেন তিনি।
এলাকার পরিস্থিতি তুলে ধরে স্পিকার বলেন, এসব অঞ্চল বাটপারের কারখানায় পরিণত হয়েছে। মাদক নির্মূলে স্থানীয় নেতা-কর্মীদের উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মাদকের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আটক করে সরাসরি পুলিশের হাতে তুলে দিতে হবে।
এর আগে তজুমদ্দিন উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও তাঁকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এ সময় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের শতাধিক অসহায়, পঙ্গু ও দুস্থ মানুষের মধ্যে নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে তজুমদ্দিনকে পৌরসভায় উন্নীত করা এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের বিনোদনের জন্য একটি পার্ক নির্মাণসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক উদ্যোগ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেন হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।
উপজেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম মোস্তফা মিন্টুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক ওমর আসাদ রিন্টু। এ সময় স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন নেতা-কর্মী ফুল দিয়ে স্পিকারকে শুভেচ্ছা জানান।
আজ জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, সফর সঙ্গী হচ্ছেন যারা