নেত্রকোনায় সাংবাদিক হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত অনেকটা এগিয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান। এ ঘটনায় একজন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, হত্যার কারণ শনাক্ত এবং জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে নেত্রকোনায় শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন ডিআইজি।
মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান বলেন, সাংবাদিক হত্যার ঘটনাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে পুলিশ। এ মামলার অগ্রগতি নিয়ে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) তাঁকে ও নেত্রকোনার পুলিশ সুপারকে দুই দফায় ফোন করেছেন। পেশাদারত্বের সঙ্গে তদন্ত করে ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তদন্তের অগ্রগতি তুলে ধরে ডিআইজি বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার ক্ষেত্রে পুলিশ অনেকটা এগিয়েছে। তবে তদন্ত চলমান থাকায় এখনই কারও নাম প্রকাশ করা হচ্ছে না। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া এক সন্দেহভাজনকে প্রথমে এক দিনের এবং পরে আরও চার দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। তাঁকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
হত্যার কারণ উদ্ঘাটন এবং জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, অপরাধীকে গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে কখনো কখনো সময়ের প্রয়োজন হয়। এ জন্য তদন্ত শেষ করার সুযোগ দিতে সাংবাদিকদের ধৈর্য ধরার অনুরোধ জানান তিনি।
মামলার তদন্তে পুলিশের নিরলস প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করে জাহিদুল হাসান জানান, একজন কর্মকর্তার নেতৃত্বে বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে। দলটি রাতভর অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। এক কর্মকর্তা রাত চারটার দিকে তাঁকে বার্তা দিয়ে অভিযানের সমাপ্তির কথা জানিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
নেত্রকোনা সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় অপরাধীদের গ্রেপ্তারে কখনো জটিলতা তৈরি হয় বলে মন্তব্য করেন ডিআইজি। তাঁর ভাষ্য, অপরাধ করে কেউ সীমান্ত পেরিয়ে গেলে তাকে গ্রেপ্তার করা কঠিন হতে পারে। এ কারণে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে পুলিশ। মামলাটির ছায়া তদন্তে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) যুক্ত করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে শারদীয় দুর্গাপূজার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ময়মনসিংহ রেঞ্জ পুলিশের পক্ষ থেকে একাধিক বৈঠক করা হয়েছে বলে জানান ডিআইজি। নেত্রকোনায় পূজামণ্ডপের সংখ্যা বেশি হওয়ায় আইজিপির সঙ্গে আলোচনা করে সেখানে এক প্লাটুন আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) মোতায়েন করা হয়েছে। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ময়মনসিংহ রেঞ্জের মধ্যে ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা জেলায় এপিবিএন মোতায়েন রয়েছে।
ডিআইজি বলেন, কোনো এলাকায় নিরাপত্তাঝুঁকি বেশি হলে বা জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হলে এপিবিএন মোতায়েন করা হয়। পূজামণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
আজ জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, সফর সঙ্গী হচ্ছেন যারা