প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক বহাল থাকা অবস্থায় শ্যালিকাকে বিয়ে করায় নওগাঁর এক যুবককে ঘিরে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ার পর ভাড়া বাসা ছাড়তে হয় তাঁকে। পরে শ্বশুরবাড়ির এলাকায় গিয়েও স্থানীয়দের ক্ষোভের মুখে পড়েন তিনি। একপর্যায়ে তাঁর মুখে চুন-কালি মাখিয়ে এলাকা থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
৩৫ বছর বয়সী ওই যুবকের বাড়ি নওগাঁ সদর উপজেলায়। তিনি পেশায় একজন আইনজীবীর সহকারী। তাঁর প্রথম স্ত্রীর বয়স ২৮ বছর এবং শ্যালিকার বয়স ২১ বছর। প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে সংসার চলমান থাকা অবস্থায় তিনি শ্যালিকাকে বিয়ে করেন। এর আগে বদলগাছী উপজেলায় ভাড়া বাসায় থাকতেন তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত রোববার সন্ধ্যায় পরিবারের সম্মতি এবং প্রথম স্ত্রীর অনুমোদন রয়েছে বলে দাবি করে শ্যালিকাকে বিয়ে করেন ওই যুবক। পরে বিয়ের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করলে তা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। স্থানীয়দের আপত্তির মুখে একপর্যায়ে ভাড়া বাসা ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে আসবাবপত্র নিয়ে দুই স্ত্রীকে সঙ্গে করে মহাদেবপুরে শ্বশুরবাড়ির উদ্দেশে রওনা হন ওই যুবক। রাত ১০টার দিকে মহাদেবপুর উপজেলার মাতাজি বিরামগ্রাম এলাকায় পৌঁছালে স্থানীয়দের একাংশের বিরোধিতার মুখে পড়েন। এ সময় তাঁর মুখে চুন-কালি মাখিয়ে এলাকা থেকে বের করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
শ্যালিকাকে বিয়ে করার কারণ ব্যাখ্যা করে ওই যুবক দাবি করেন, তাঁর শ্যালিকার অন্যত্র বিয়ে হলে আগে তাঁদের একসঙ্গে তৈরি করা কিছু টিকটক ভিডিও নিয়ে ভবিষ্যতে তাঁকে হয়রানির শিকার হতে হতে পারে এমন আশঙ্কা থেকেই তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, প্রথম স্ত্রীর সম্মতি নিয়েই দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন তিনি।
তবে ইসলামী শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক বহাল থাকা অবস্থায় তাঁর আপন বোনকে বিয়ে করা নিষিদ্ধ। নওগাঁ জেলা কাজী সমিতির সভাপতি মাওলানা আমিনুল ইসলাম বলেন, পবিত্র কোরআনের সূরা আন-নিসার ২৩ নম্বর আয়াতে দুই বোনকে একই সময়ে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ করার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্কের অবসান ঘটলে শরিয়তের বিধান অনুযায়ী পরবর্তী বিয়ের সুযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে মহাদেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওমর ফারুক বলেন, এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসায় জাপানের প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি