Morning Times
সাম্প্রতিক
সদ্যবিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় পতন সদ্যমিরপুরে শ্রমিক বিক্ষোভে সংঘর্ষ-আগুন, চার মামলায় আসামি সাড়ে ১০ হাজার সদ্যসহিংসতায় কিছু শিল্পমালিকের জড়িত থাকার অডিও-ভিডিও প্রমাণ মিলেছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সদ্যদেশ অস্থিতিশীল করতে পরাজিত শক্তি ষড়যন্ত্র চলছে: রিজভী সদ্যনারায়ণগঞ্জে ৯ মাসে ১০৩ খুন, উদ্বেগ বাড়ছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সদ্যযশোরে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন, ২ পুলিশ সদস্য ক্লোজ সদ্যঅগ্নিসন্ত্রাসের জন্য জামায়াতের আমিরকে আইনের আওতায় আনতে হবে সদ্যশ্রমিক অসন্তোষে বন্ধ ৬৭০ পোশাক কারখানা: বিজিএমইএ সদ্যতরুণদের বিনা জামানতে ২০ লাখ টাকা ঋণ দেয়ার আবেদন শুরু সদ্যকারখানা সচল থাকলে জীবিকা সুরক্ষিত থাকবে: ডিসি ফরিদা খানম সদ্যবিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় পতন সদ্যমিরপুরে শ্রমিক বিক্ষোভে সংঘর্ষ-আগুন, চার মামলায় আসামি সাড়ে ১০ হাজার সদ্যসহিংসতায় কিছু শিল্পমালিকের জড়িত থাকার অডিও-ভিডিও প্রমাণ মিলেছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সদ্যদেশ অস্থিতিশীল করতে পরাজিত শক্তি ষড়যন্ত্র চলছে: রিজভী সদ্যনারায়ণগঞ্জে ৯ মাসে ১০৩ খুন, উদ্বেগ বাড়ছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সদ্যযশোরে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন, ২ পুলিশ সদস্য ক্লোজ সদ্যঅগ্নিসন্ত্রাসের জন্য জামায়াতের আমিরকে আইনের আওতায় আনতে হবে সদ্যশ্রমিক অসন্তোষে বন্ধ ৬৭০ পোশাক কারখানা: বিজিএমইএ সদ্যতরুণদের বিনা জামানতে ২০ লাখ টাকা ঋণ দেয়ার আবেদন শুরু সদ্যকারখানা সচল থাকলে জীবিকা সুরক্ষিত থাকবে: ডিসি ফরিদা খানম
ট্রেন্ডিং ক্রিকেট চলচ্চিত্র জলবায়ু ফুটবল শিক্ষানীতি শেয়ারবাজার

পাঁচ ঘণ্টা সড়ক অবরোধে লিংক রোডে চরম ভোগান্তি, হেঁটে গন্তব্যে যাত্রীরা

পাঁচ ঘণ্টা সড়ক অবরোধে লিংক রোডে চরম ভোগান্তি, হেঁটে গন্তব্যে যাত্রীরা

ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে টানা পাঁচ ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ যাত্রী ও পথচারীরা। ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের আকস্মিক সড়ক অবরোধে স্থবির হয়ে পড়ে পুরো এলাকা। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্কদের ব্যাগ-বোঝা নিয়ে মাইলের পর মাইল হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছাতে দেখা যায়।

জরুরি কাজে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়ে শিবু মার্কেট এলাকায় আটকে পড়েন সোহেল নামের এক পথচারী। তিনি বলেন, “ঢাকা যাওয়ার জন্য বের হয়েছিলাম। কিন্তু রাস্তার এই অবস্থার কারণে যাওয়ার কোনো উপায় নেই। যানজট ও অবরোধে সাধারণ মানুষের ভোগান্তির শেষ নেই।”

হাতে ও কাঁধে ভারী ব্যাগ নিয়ে জেলা পরিষদ এলাকা থেকে হেঁটে রওনা হওয়া হারুন নিজের দুর্ভোগের কথা জানিয়ে বলেন, “শ্বশুরবাড়ি পাগলায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে বের হয়েছিলাম। কিন্তু রাস্তায় এসে দেখি বাস-অটোরিকশা সব বন্ধ। অর্ধেক পথ চলে আসায় এখন না পারছি বাসায় ফিরতে, না পারছি গন্তব্যে পৌঁছাতে। ফতুল্লা স্টেডিয়ামের সামনে এসে ক্লান্ত হয়ে পড়েছি। একটু পরপর বিশ্রাম নিচ্ছি, আবার হাঁটছি।”

ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ভাইপোর জন্য খাবার নিয়ে যাওয়ার পথে ফতুল্লা স্টেডিয়ামের সামনে আটকে পড়েন মীর ওয়াশেক আলী। তিনি বলেন, “শিবু মার্কেট থেকে সাইনবোর্ডের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলাম হাসপাতালে ভাইপোর জন্য খাবার দিতে। কিন্তু দীর্ঘ পথ হাঁটার পর এখানে এসে দেখি যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ। বাধ্য হয়ে খাবার নিয়ে আবার বাসায় ফিরে যেতে হচ্ছে।”

ভোগান্তিতে পড়া এক নারী পথচারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের মতো সাধারণ মানুষের কী অপরাধ? সঙ্গে বাচ্চা ও ভারী ব্যাগ নিয়ে মাইলের পর মাইল হাঁটতে হচ্ছে। কোনো গাড়ি নেই, একটা রিকশাও পাওয়া যাচ্ছে না। শ্রমিকদের দাবি থাকতে পারে, কিন্তু এভাবে পথ আটকে হাজার হাজার মানুষকে কষ্ট দেওয়া কোনো সমাধান হতে পারে না। দ্রুত এই দুর্ভোগ থেকে আমরা মুক্তি চাই।”

সোমবার (২ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ফতুল্লার কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা বিক্ষোভ শুরু করেন। প্রায় আধা ঘণ্টা পর তাঁরা ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়কে অবস্থান নিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করেন। বেলা আড়াইটার দিকে সড়কের ভূঁইগড় এলাকায় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশ ও বিজিবি সদস্যদের মুখোমুখি অবস্থান তৈরি হয়। তবে হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হলে শ্রমিকেরা কিছুটা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েন। পরে শিবু মার্কেট এলাকায় শ্রমিকেরা আবার জড়ো হলে পুনরায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বিকেল পাঁচটার পর শ্রমিকেরা সড়ক থেকে সরে যেতে শুরু করলে ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক হতে থাকে।

আন্দোলনরত শ্রমিকেরা বলেন, “আমাদের বাঁচার মতো বেতন দিতে হবে। আমরা কাজ করে ন্যায্য পারিশ্রমিক চাই। শহরে জীবনযাপনের খরচ অনেক। আমাদের বেতন না বাড়ালে গ্যাস-বিদ্যুতের দাম ও দ্রব্যমূল্য কমাতে হবে। অন্যথায় বেতন বাড়িয়ে ৩০ হাজার টাকা করতে হবে। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।”

এ সময় ঢাকা ও গাজীপুরে শ্রমিক আন্দোলনে হতাহতের ঘটনার প্রতিবাদ জানান তাঁরা। পাশাপাশি বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেমের পদত্যাগ দাবি করে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

ঘটনাস্থলে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) জানান, ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে কয়েকটি কারখানার কয়েক শ শ্রমিক সড়কে নেমে অবরোধ করলে যান চলাচল বিঘ্নিত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশের পাশাপাশি বিজিবি মোতায়েন করা হয়। এ ছাড়া সড়কে পুলিশের সাঁজোয়া যান ও জলকামানের গাড়ি প্রস্তুত রাখা হয়।

বিক্ষোভের সময় জেলা পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান শ্রমিকদের উদ্দেশে বলেন, “কেউ উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করবেন না। সরকার আপনাদের নিয়ে কাজ করছে। আপনাদের বিষয়ে একটি সিদ্ধান্ত আসবে।”

বিক্ষোভের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে যান নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম আজাদ, জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির, মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু, নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম সজল এবং নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের সদস্যসচিব মশিউর রহমান রনি। তাঁরা আন্দোলনরত শ্রমিকদের শান্ত থাকার এবং স্বাভাবিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানান।​

মন্তব্য (0)

সাইন-ইন

মন্তব্য প্রকাশের আগে মডারেশন পাস করবে।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!

সর্বশেষ
জনপ্রিয়