কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সহায়তায় বহুল ব্যবহৃত একটি প্রোগ্রামিং ভাষায় গুরুতর নিরাপত্তা দুর্বলতা শনাক্ত হওয়ার পর বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। কোথাও ওয়েবসাইট সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে, আবার কিছু অনলাইন সেবাও স্থগিত করা হয়েছে। সম্ভাব্য সাইবার হামলার ঝুঁকি মোকাবিলায় নিজেদের সিস্টেমের নিরাপত্তা জোরদারে কাজ শুরু করেছেন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) যুক্তরাজ্য সরকারের এক মুখপাত্র জানান, সম্ভাব্য নিরাপত্তা দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করে তা সমাধানের জন্য দেশটির সরকারের সব বিভাগে কাজ চলছে।
ওই মুখপাত্র বলেন, এ কার্যক্রমের কারণে জনসাধারণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কোনো বড় সেবা ব্যাহত হচ্ছে না। তবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কাজ চলাকালে কিছু সীমিত পরিসরের পরিষেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সি (এনএসএ) এবং ইউরোপের সাইবার নিরাপত্তা সংস্থাগুলো পিএইচপি প্রোগ্রামিং ভাষার দুটি গুরুতর ত্রুটি দ্রুত সমাধানের জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে পরামর্শ দিয়েছে। পিএইচপি এমন একটি বহুল ব্যবহৃত ভাষা, যার ওপর ওয়ার্ডপ্রেস ও দ্রুপালের মতো ওপেন সোর্স কনটেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমসহ বিশ্বের প্রায় ৭০ শতাংশ ওয়েবসাইটের কার্যক্রম নির্ভরশীল।
পিএইচপি ভাষার উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণের সঙ্গে যুক্ত পিএইচপি ফাউন্ডেশন ইতিমধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সফটওয়্যারে বিদ্যমান নিরাপত্তা ত্রুটিগুলোর সমাধানে প্যাচ প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে ওয়েবসাইট পরিচালনাকারীদের দ্রুত নিজেদের সিস্টেম হালনাগাদ করার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
নিরাপত্তা জোরদারের অংশ হিসেবে আয়ারল্যান্ডের জনপ্রিয় অনলাইন সংবাদমাধ্যম ‘দ্য জার্নাল’-এর ওয়েবসাইটও বৃহস্পতিবার সকালে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। প্রতিষ্ঠানটি এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, নিজেদের সুরক্ষাব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার জন্যই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্স ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির জাতীয় সম্প্রচারমাধ্যম আরটিইর পর দ্য জার্নাল আয়ারল্যান্ডের দ্বিতীয় সর্বাধিক ব্যবহৃত অনলাইন সংবাদমাধ্যম।
পিএইচপির এই নিরাপত্তা দুর্বলতাগুলো শনাক্ত করার কাজে যুক্ত ছিল ওপেনএআই, গুগলের মালিকানাধীন সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান উইজ এবং আরেকটি সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ক্যালিফের গবেষক দল।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘পিএইচপি২শেল’ (PHP2Shell) নামে পরিচিত ত্রুটিগুলো কাজে লাগিয়ে সাইবার অপরাধীরা ওয়েবসাইটে অনুপ্রবেশ করতে পারে। এমনকি সার্ভারের মেমোরিতে থাকা সংবেদনশীল তথ্যও তাদের নাগালে চলে আসতে পারে, যার মধ্যে পাসওয়ার্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থাকার আশঙ্কা রয়েছে।
আর্থিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ডিভিয়ার গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) নাইজেল গ্রিন বলেন, ইন্টারনেটের বিশাল একটি অংশ পিএইচপির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এর নিরাপত্তা ঝুঁকি অনলাইনে অর্থ লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত প্রায় সব ক্ষেত্রেই প্রভাব ফেলতে পারে।
তাঁর মতে, অনলাইন বুকিং প্ল্যাটফর্ম, মার্কেটপ্লেস, সাবস্ক্রিপশনভিত্তিক সেবা, টিকিট বিক্রির ওয়েবসাইট, পণ্য সরবরাহের অ্যাপ এবং বিভিন্ন ইউটিলিটি পোর্টালও এ ঝুঁকির আওতায় পড়তে পারে।
সূত্র: সিএনএন
আজ জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, সফর সঙ্গী হচ্ছেন যারা