সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সদর দপ্তরসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা চালানোর দাবি করেছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা। তাদের দাবি, সৌদি রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর একটি স্থাপনা এবং দুটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরও এসব হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এক বিবৃতিতে জানান, গত ৪৮ ঘণ্টায় সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে চারটি সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে তাদের বাহিনী। এসব অভিযানে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
হুথিদের বিবৃতিতে উল্লেখ করা লক্ষ্যবস্তুগুলোর মধ্যে রয়েছে রিয়াদে সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সদর দপ্তর, লোহিত সাগরের উপকূলীয় শহর ইয়ানবুতে আরামকোর একটি স্থাপনা, দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত আভা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর।
রিয়াদে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সদর দপ্তর ও ইয়ানবুতে আরামকোর স্থাপনায় হামলার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য জানায়নি সৌদি কর্তৃপক্ষ। তবে দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় দুজন নিহত ও আটজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
সৌদি কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিহত দুজনের একজন সৌদি নাগরিক এবং অন্যজন ভারতীয় নাগরিক। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে সৌদি আরব, ভারত, বাংলাদেশ, ইয়েমেন ও নেপালের নাগরিক রয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
হুথিদের সামরিক মুখপাত্রের দাবি, ইয়ানবুতে আরামকোর স্থাপনায় হামলার পর সেখানে আগুন ধরে যায়। অন্যদিকে, দাম্মাম বিমানবন্দরে হামলার কারণে বিমান চলাচল ব্যাহত হয়েছে বলেও দাবি করেছে গোষ্ঠীটি।
এদিকে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার আরামকোর ধাহরান সদর দপ্তরের কর্মীদের পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বাড়ি থেকে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে গত সপ্তাহে ওই স্থাপনায় হুথিদের হামলার পর থেকেই বেশির ভাগ কর্মী দূর থেকে কাজ করছিলেন।
সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে সংঘাত আবারও তীব্র হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনা ও বিমানবন্দরে হামলার দাবি করে আসছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত এই গোষ্ঠী। এর জবাবে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটও ইয়েমেনে হুথিদের বিভিন্ন অবস্থান ও স্থাপনায় হামলা চালাচ্ছে।
হুথিদের দাবি, গত ১০০ দিনে সৌদি আরব ও ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী ইয়েমেনে দুই হাজার ৯০০টির বেশি বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় ৫৬২ জনের বেশি মানুষ নিহত বা আহত হয়েছেন। হতাহত ব্যক্তিদের অধিকাংশই নারী ও শিশু বলে দাবি করেছে গোষ্ঠীটি।
হুথিরা আরও জানিয়েছে, ইয়েমেনে সৌদি হামলা বন্ধ এবং দেশটির ওপর থেকে অবরোধ প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত সৌদি আরবের অভ্যন্তরে সামরিক স্থাপনা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা অব্যাহত রাখবে তারা।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই, রয়টার্স
আজ জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, সফর সঙ্গী হচ্ছেন যারা