মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে নতুন করে সামরিক হামলার পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। সম্ভাব্য এই হামলায় ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো, পারমাণবিক স্থাপনা এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের ভান্ডার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস ও অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। তবে হামলার বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
অ্যাক্সিওসের ২১ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত সোমবার ইসরায়েলের কয়েক ডজন যুদ্ধবিমান ও আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান দীর্ঘপথের একটি সামরিক উড্ডয়ন পরিচালনা করে। বিমানগুলো সিরিয়া ও ইরাকের আকাশসীমা ব্যবহার করে ইরান সীমান্তের কাছে পৌঁছায়। ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি ছিল সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শন ও ইরানকে নিবৃত্ত করার মহড়া। তবে উড্ডয়নের পথ সম্ভাব্য হামলার রুটের সঙ্গে মিলে যাওয়ায় নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী নভেম্বরের ৩ তারিখে অনুষ্ঠেয় মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে নতুন করে হামলার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। সম্ভাব্য অভিযানটি স্বল্প সময়ের হলেও তীব্র হতে পারে। এর লক্ষ্য হতে পারে ইরানের সামরিক সক্ষমতা ও অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করে দেশটিকে আলোচনায় ছাড় দিতে বাধ্য করা।
প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচনের আগে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক অভিযানে যেতে আগ্রহী নন। তবে নির্বাচনের পর হামলার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর প্রস্তুতির খবরও পাওয়া গেছে। আল-মনিটরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিমানবাহী রণতরি ‘ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট’ এবং উভচর রণতরি ‘ইউএসএস মাকিন আইল্যান্ড’কে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে পাঠানো হয়েছে। তবে এসব মোতায়েনকে ইরানে হামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের প্রমাণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে না।
সাবমেরিন কেবল নিয়ে ইরানের হুঁশিয়ারি
সম্ভাব্য নতুন হামলার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে পাল্টা জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) মুখপাত্র হোসেইন মোহেব্বি হরমুজ প্রণালি ও পারস্য উপসাগরের তলদেশ দিয়ে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারনেট কেবলের প্রসঙ্গ তুলে ধরেছেন।
২০ অক্টোবর প্রকাশিত আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়, মোহেব্বি নতুন হামলা হলে নতুন লক্ষ্যবস্তু ও অস্ত্র উন্মোচনের হুঁশিয়ারি দেন। তিনি হরমুজ প্রণালির নিচ দিয়ে যাওয়া সাতটি গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারনেট কেবলের কথা উল্লেখ করেন। তবে কেবলগুলো কেটে দেওয়ার বিষয়ে তাঁর সরাসরি বক্তব্যের তথ্য প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।
সমুদ্রের তলদেশের এসব কেবল আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট যোগাযোগ, ক্লাউড সেবা ও আর্থিক লেনদেনের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। এগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হলে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ইন্টারনেট ও ডিজিটাল সেবা ব্যাহত হতে পারে।
এদিকে, ইরান জানিয়েছে, নতুন করে সামরিক হামলা হলে তারা পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্ভাব্য সামরিক পরিকল্পনা এবং তেহরানের পাল্টা হুঁশিয়ারিতে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
আজ জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, সফর সঙ্গী হচ্ছেন যারা