ইসরাইলের জাতীয় নির্বাচনের আংশিক ফলে সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোটের চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তবে পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করার মতো আসন পায়নি তাঁর জোট। ফলে সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় বুধবার (২৮ অক্টোবর) সন্ধ্যা পর্যন্ত ৮৫ শতাংশ ভোট গণনা শেষে দেখা গেছে, নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি এবং তাঁর কট্টর ডানপন্থী ও অতি-রক্ষণশীল ইহুদি মিত্ররা ১২০ আসনের নেসেটে ৫৩টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে, আইজেনকোটের ইয়াশার পার্টি ও তাঁর জোটের অন্য তিনটি দল পেতে পারে ৪৮টি আসন।
এবারের নির্বাচনে বড় চমক দেখিয়েছে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলো। প্রাথমিক হিসাবে, তারা রেকর্ড ১৯টি আসন পেতে পারে। ফলে সরকার গঠনের সমীকরণে এসব দল গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তবে ইহুদি দলগুলোর মধ্যে একটি ছাড়া বাকি দলগুলো আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সঙ্গে কাজ না করার অঙ্গীকার করেছে।
সেনাসদস্য ও কূটনীতিকদের দেওয়া ৪ লাখ ৩০ হাজার থেকে ৪ লাখ ৮০ হাজার ভোট এখনো গণনা করা হয়নি। ফলে চূড়ান্ত ফল প্রকাশে আরও এক থেকে দুই দিন লাগতে পারে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
চূড়ান্ত ফল নিশ্চিত হওয়ার পর ইসরাইলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগ সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করবেন। এরপর যাঁর সরকার গঠনের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি বলে মনে করবেন, তাঁকেই সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানাবেন। এ প্রক্রিয়া শেষ হতে কয়েক সপ্তাহ লেগে যেতে পারে। শেষ পর্যন্ত সরকার গঠনের চেষ্টা ব্যর্থ হলে দেশটিতে আবারও নির্বাচন আয়োজন করতে হতে পারে।
বুধবার জেরুজালেমে নিজের বাসভবনে এক বৈঠকে মঙ্গলবারের নির্বাচনে ৭৭ দশমিক ৭ শতাংশ ভোটার উপস্থিতির প্রশংসা করেন প্রেসিডেন্ট হারজোগ। গত দুই দশকের বেশি সময়ের মধ্যে দেশটিতে এটিই সর্বোচ্চ ভোটার উপস্থিতি।
হারজোগ বলেন, ‘এটি ইসরাইলি সমাজের জন্য গর্বের বিষয়। ইসরাইলে গণতন্ত্রের প্রতি মানুষের আকাঙ্ক্ষা কতটা গভীর, তা দেখে বিস্মিত হয়েছি।’
আগামী সপ্তাহে নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফল হাতে পাওয়ার আশা প্রকাশ করে তিনি জানান, এরপর সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা শুরু করবেন।
তিনি বলেন, ‘গতকালের নির্বাচনের পর আমাদের অবশ্যই সম্ভাব্য সবকিছু করতে হবে, যাতে আরেকটি নির্বাচন এড়ানো যায়। সবার কাছে আমার প্রত্যাশা, এখানে আলোচনায় আসা প্রত্যেকেই খোলা মন নিয়ে আসবেন।’
প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ও তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকোট দুজনই সরকার গঠনের দায়িত্ব পাওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
ইসরাইলের তিনটি সম্প্রচারমাধ্যমের প্রকাশিত প্রাথমিক বুথফেরত জরিপে আইজেনকোটের ‘চেঞ্জ ব্লক’ নেসেটে ৫২ থেকে ৫৩টি আসন পেতে পারে বলে আভাস দেওয়া হয়েছিল। অন্যদিকে, নেতানিয়াহুর জোটের সম্ভাব্য আসনসংখ্যা দেখানো হয়েছিল ৫০টি। ওই জরিপের ফলের পর আইজেনকোট দাবি করেন, জনগণ ‘পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছে’।
তেল আবিবে ইয়াশার পার্টির নির্বাচনী সদর দপ্তরে সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘ব্যর্থতার জোট জনগণের আস্থা হারিয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘জনগণের রায়কে একটি জায়নবাদী সরকারে রূপ দিতে আমি আমার জোটসঙ্গীদের সঙ্গে কাজ করব।’
অন্যদিকে, জেরুজালেমে লিকুদ পার্টির সদর দপ্তরে নেতানিয়াহু দাবি করেন, তাঁর ডানপন্থী জোট ‘বড় ব্যবধানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা’ পেয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমাদের একটি শক্তিশালী ডানপন্থী জাতীয় সরকার গঠন করতে হবে।’ নেতানিয়াহুর ভাষ্য, ‘জায়নবাদবিরোধী আরব দলগুলোর ওপর নির্ভরশীল সরকার গঠন করে ইসরাইলকে বিপদের মুখে ফেলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’
ভোট গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচনের চূড়ান্ত চিত্র স্পষ্ট হচ্ছে না। ফলে ইসরাইলের পরবর্তী সরকার কারা গঠন করবে, তা নির্ভর করছে চূড়ান্ত ফল এবং পরবর্তী জোট আলোচনার ওপর।
সূত্র: বিবিসি
ঢাকাকে টোকিওর মতো পরিচ্ছন্ন করতে চাই: প্রধানমন্ত্রী