Morning Times
সাম্প্রতিক
সদ্যতাহসিফের সঙ্গে থাকা সেই তরুণী আবারও রিমান্ডে সদ্যশেখ হাসিনার সাবেক তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী আটক সদ্যডিসেম্বর থেকে কার্যকর হবে পোশাকশ্রমিকদের নতুন বেতন কাঠামো সদ্যমার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন: কংগ্রেসের দুই কক্ষেই নিয়ন্ত্রণ হারাল ক্ষমতাসীনরা সদ্যদক্ষিণ এশিয়ায় ১২ কেজি এলপিজির দাম সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশে সদ্যশ্রমিক বিক্ষোভের ছবি তুলতে গেলেই হামলা, কেন সাংবাদিকদের টার্গেট? সদ্যসাভারে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষে আহত ১৫, ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ সদ্যইরানে আপাতত নতুন হামলার পরিকল্পনা নেই: ট্রাম্প সদ্যপ্রধানমন্ত্রীর স্লোগানকে হাদিসের সঙ্গে তুলনা করে পদ হারালেন সরকারি কর্মকর্তা সদ্যনারীর অ্যাকাউন্ট থেকে ৮৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ, ডাচ্-বাংলার কর্মকর্তাসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা সদ্যতাহসিফের সঙ্গে থাকা সেই তরুণী আবারও রিমান্ডে সদ্যশেখ হাসিনার সাবেক তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী আটক সদ্যডিসেম্বর থেকে কার্যকর হবে পোশাকশ্রমিকদের নতুন বেতন কাঠামো সদ্যমার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন: কংগ্রেসের দুই কক্ষেই নিয়ন্ত্রণ হারাল ক্ষমতাসীনরা সদ্যদক্ষিণ এশিয়ায় ১২ কেজি এলপিজির দাম সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশে সদ্যশ্রমিক বিক্ষোভের ছবি তুলতে গেলেই হামলা, কেন সাংবাদিকদের টার্গেট? সদ্যসাভারে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষে আহত ১৫, ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ সদ্যইরানে আপাতত নতুন হামলার পরিকল্পনা নেই: ট্রাম্প সদ্যপ্রধানমন্ত্রীর স্লোগানকে হাদিসের সঙ্গে তুলনা করে পদ হারালেন সরকারি কর্মকর্তা সদ্যনারীর অ্যাকাউন্ট থেকে ৮৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ, ডাচ্-বাংলার কর্মকর্তাসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা
ট্রেন্ডিং ক্রিকেট চলচ্চিত্র জলবায়ু ফুটবল শিক্ষানীতি শেয়ারবাজার

শ্রমিক বিক্ষোভের ছবি তুলতে গেলেই হামলা, কেন সাংবাদিকদের টার্গেট?

মর্নিং টাইমস ডেস্ক ৪ নভেম্বর ২০২৬, ১০:৪১ এএম
আপডেট: ৪ নভেম্বর ২০২৬, ১১:০৮ এএম
শ্রমিক বিক্ষোভের ছবি তুলতে গেলেই হামলা, কেন সাংবাদিকদের টার্গেট?
ছবি: সংগৃহীত

পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে কয়েক দিন ধরে উত্তাল গাজীপুরের শিল্পাঞ্চল। শ্রমিকদের বিক্ষোভ, মহাসড়ক অবরোধ, যানবাহন ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটছে প্রায় প্রতিদিনই।

এসব ঘটনার ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে হামলার শিকার হচ্ছেন সাংবাদিকসহ সাধারণ মানুষ। কেড়ে নেওয়া হচ্ছে মোবাইল ফোন, ভেঙে ফেলা হচ্ছে ক্যামেরাসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম।

গত কয়েক দিনে অন্তত ছয় সাংবাদিক হামলার শিকার হয়ে আহত হয়েছেন। একইভাবে আন্দোলনের ছবি তুলতে গিয়ে হামলার শিকার হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন তৌফিক হোসেন নামে এক পোশাকশ্রমিক।

শুধু ছবি বা ভিডিও ধারণের কারণে কেন এমন হামলা? সহিংসতার দৃশ্য ক্যামেরাবন্দী হলেই কেন কেড়ে নেওয়া হচ্ছে মোবাইল ফোন, ভেঙে ফেলা হচ্ছে ক্যামেরা? কারা চায় না এসব ঘটনার প্রকৃত চিত্র প্রকাশ হোক? এমন প্রশ্ন এখন গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে কর্মরত সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে।

স্থানীয় সাংবাদিকদের অভিযোগ, শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরির দাবিতে চলমান আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে একটি পক্ষ ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনা ঘটাচ্ছে। এসব কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ করা হলে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় প্রকাশের আশঙ্কায় সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে। এতে আন্দোলনের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরার পাশাপাশি সহিংসতার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার কাজও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

হামলার শিকার সাংবাদিকদের মধ্যে রয়েছেন সময় টিভির গাজীপুর প্রতিনিধি ও তাঁর ক্যামেরাপারসন, এখন টিভির প্রতিনিধি, কালের কণ্ঠের কালিয়াকৈর প্রতিনিধি, দীপ্ত টিভির গাজীপুর প্রতিনিধি, দৈনিক দেশ রূপান্তর ও এশিয়া পোস্টের গাজীপুর প্রতিনিধি এবং এসএ টিভির ক্যামেরাপারসন। এ ছাড়া বিভিন্ন এলাকায় আন্দোলনের ছবি তুলতে গিয়ে সাধারণ মানুষের মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া, ভাঙচুর ও মারধরের অভিযোগও পাওয়া গেছে।

মঙ্গলবার গাজীপুর মহানগরীর নাওজোর এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে পুরোনো কাগজপত্রে আগুন ধরিয়ে দেন আন্দোলনকারীদের একটি অংশের কয়েকজন যুবক। এ সময় তাঁদের চিৎকার করে বলতে শোনা যায়, কেউ যেন ছবি না তোলেন।

ঘটনাস্থলে সাংবাদিকেরা উপস্থিত থাকলেও ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ছবি ধারণ করতে পারেননি। কয়েকজন সাধারণ মানুষ মোবাইল ফোনে ছবি তোলার চেষ্টা করলে তাঁদের বাধা দেওয়া হয়। কারও কাছ থেকে ফোন কেড়ে নেওয়া হয়, আবার কারও মোবাইল ভেঙে ফেলা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় সাংবাদিকদের ভাষ্য, শুধু নাওজোর নয়, শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় একই ধরনের ঘটনা ঘটছে। কোথাও অগ্নিসংযোগের দৃশ্য ধারণ করতে গেলে, কোথাও যানবাহন ভাঙচুরের ছবি তুলতে গেলেই বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে সংবাদকর্মীদের। অনেক ক্ষেত্রে হামলার আশঙ্কায় সাংবাদিকেরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকেও ছবি বা ভিডিও ধারণ করতে পারছেন না। এতে সহিংসতার প্রকৃত চিত্র এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় সামনে আনা কঠিন হয়ে পড়েছে।

সাংবাদিকদের পাশাপাশি ছবি ধারণ করতে গিয়ে সাধারণ মানুষের ওপর হামলার একটি ভয়াবহ ঘটনা ঘটে সোমবার গাজীপুর মহানগরীর বাংলাবাজার এলাকায়। সেখানে শ্রমিক আন্দোলনের দৃশ্য মোবাইল ফোনে ধারণ করতে গিয়ে হামলার শিকার হন তৌফিক হোসেন নামে এক পোশাকশ্রমিক। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে ঢাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার সকালে তাঁর মৃত্যু হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সময় তৌফিক শ্রমিকদের বিক্ষোভের দৃশ্য মোবাইল ফোনে ধারণ করছিলেন। এ সময় কয়েকজন পোশাকশ্রমিক তাঁকে মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। তবে কী কারণে তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়েছিল এবং কারা এতে জড়িত, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

ছবি ধারণ করতে গিয়ে একজন শ্রমিকের প্রাণহানির ঘটনা চলমান আন্দোলনে সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার বিষয়টিকে আরও গুরুতর করে তুলেছে।

এ বিষয়ে বাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হারুন অর রশিদ জানান, ছবি তুলতে গিয়ে সাংবাদিকেরা হামলার শিকার হয়েছেন বলে তাঁরা জানতে পেরেছেন। সাধারণ মানুষ হামলা ও সহিংসতার ছবি ধারণ করতে গেলে তাঁদের ওপরও হামলা, মোবাইল ফোন ভাঙচুর ও ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে তথ্য পেয়েছেন। তবে এসব ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় লিখিত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

কোনাবাড়ী থানার ওসি ইফতেখার হোসেন বলেন, আন্দোলনের ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে বারবার হামলার শিকার হচ্ছেন সাংবাদিকেরা। অনেক ক্ষেত্রে ছবি বা ভিডিও ধারণের চেষ্টা করলেই তাঁদের ক্যামেরা ভাঙচুর করা হচ্ছে। এতে ঘটনাস্থলে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আন্দোলনকারীদের হামলায় একাধিক সাংবাদিক আহত হওয়ার পাশাপাশি তাঁদের ক্যামেরা ও অন্যান্য সরঞ্জামের ক্ষতি হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ছবি তুললে হামলাকারীদের পরিচয় প্রকাশ পেয়ে যেতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই হয়তো এ ধরনের ঘটনা ঘটানো হচ্ছে।

কোনাবাড়ী থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বাবুল হোসেন বলেন, পোশাকশ্রমিকেরা মাসিক ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা মজুরির দাবিতে কয়েক দিন ধরে আন্দোলন করছেন। এ আন্দোলনের খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকেরা বারবার হামলার শিকার হচ্ছেন, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ কিংবা বিশৃঙ্খলার ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে গেলেই তাঁদের বাধা দেওয়া হচ্ছে। এমনকি বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপরও হামলার অভিযোগ রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকেরা পেশাগত দায়িত্ব পালন করছেন। আন্দোলনের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরতে তাঁদের বাধা দেওয়া বা হামলা করা কোনোভাবেই কাম্য নয়। সূত্র: যুগান্তর

মন্তব্য (0)

সাইন-ইন

মন্তব্য প্রকাশের আগে মডারেশন পাস করবে।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!

সর্বশেষ
জনপ্রিয়