Morning Times
সাম্প্রতিক
সদ্যমার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন: কংগ্রেসের দুই কক্ষেই নিয়ন্ত্রণ হারাল ক্ষমতাসীনরা সদ্যদক্ষিণ এশিয়ায় ১২ কেজি এলপিজির দাম সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশে সদ্যসাভারে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষে আহত ১৫, ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ সদ্যইরানে আপাতত নতুন হামলার পরিকল্পনা নেই: ট্রাম্প সদ্যশ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, টিয়ারশেল ও ইট-পাটকেলে রণক্ষেত্র নারায়ণগঞ্জ সদ্যগাজীপুর-সাভারে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, টিয়ার শেল নিক্ষেপ সদ্যআমি ব্যালটে থাকলে বিপুল ভোটে জিতে যেতাম: ট্রাম্প সদ্যগাজীপুরে বিক্ষোভে আহত পোশাকশ্রমিকের মৃত্যু, অর্ধশত কারখানায় ছুটি সদ্যমজুরি বোর্ডের প্রথম সভা সকাল ১১টায় সদ্যরাজধানীতে বাসচাপায় অটোরিকশার ৪ যাত্রী নিহত সদ্যমার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন: কংগ্রেসের দুই কক্ষেই নিয়ন্ত্রণ হারাল ক্ষমতাসীনরা সদ্যদক্ষিণ এশিয়ায় ১২ কেজি এলপিজির দাম সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশে সদ্যসাভারে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষে আহত ১৫, ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ সদ্যইরানে আপাতত নতুন হামলার পরিকল্পনা নেই: ট্রাম্প সদ্যশ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, টিয়ারশেল ও ইট-পাটকেলে রণক্ষেত্র নারায়ণগঞ্জ সদ্যগাজীপুর-সাভারে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, টিয়ার শেল নিক্ষেপ সদ্যআমি ব্যালটে থাকলে বিপুল ভোটে জিতে যেতাম: ট্রাম্প সদ্যগাজীপুরে বিক্ষোভে আহত পোশাকশ্রমিকের মৃত্যু, অর্ধশত কারখানায় ছুটি সদ্যমজুরি বোর্ডের প্রথম সভা সকাল ১১টায় সদ্যরাজধানীতে বাসচাপায় অটোরিকশার ৪ যাত্রী নিহত
ট্রেন্ডিং ক্রিকেট চলচ্চিত্র জলবায়ু ফুটবল শিক্ষানীতি শেয়ারবাজার

মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন: কংগ্রেসের দুই কক্ষেই নিয়ন্ত্রণ হারাল ক্ষমতাসীনরা

মর্নিং টাইমস ডেস্ক ৪ নভেম্বর ২০২৬, ৬:১৭ এএম
আপডেট: ৪ নভেম্বর ২০২৬, ৭:৩২ এএম
মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন: কংগ্রেসের দুই কক্ষেই নিয়ন্ত্রণ হারাল ক্ষমতাসীনরা
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করেছে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাতে নির্বাচনী ফলাফলে দলটির জয় নিশ্চিত হয়। রিপাবলিকানদের কাছ থেকে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিতে প্রয়োজনীয় চারটি আসন নিজেদের দখলে নিতে সক্ষম হয়েছে ডেমোক্র্যাটরা।

এবারের নির্বাচনে সাউথ ক্যারোলাইনা, নর্থ ক্যারোলাইনা, টেক্সাস, ওহাইও ও কানসাসে ডেমোক্র্যাটদের জয় সিনেটের ক্ষমতার ভারসাম্যে পরিবর্তন এনেছে। এর মধ্যে সাউথ ক্যারোলাইনা ও টেক্সাসের জয়কে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে বিবেচনা করা হচ্ছে।

সাউথ ক্যারোলাইনায় ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ও চিকিৎসক অ্যানি অ্যান্ড্রুজ রিপাবলিকান প্রার্থী ডারলেইন গ্রাহামকে পরাজিত করে সিনেটের আসনটি পুনরুদ্ধার করেছেন। ডারলেইন গ্রাহাম প্রয়াত দীর্ঘদিনের সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের বোন। অঙ্গরাজ্যটিতে সর্বশেষ ১৯৯৮ সালে কোনো ডেমোক্র্যাট সিনেট নির্বাচনে জয় পেয়েছিলেন।

নর্থ ক্যারোলাইনায় সাবেক গভর্নর ও ডেমোক্র্যাট প্রার্থী রয় কুপার তাঁর রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বী মাইকেল হোয়াটলিকে পরাজিত করে আসনটি দখল করেছেন। রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত টেক্সাসেও জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস টালারিকো। ধর্মতত্ত্বের শিক্ষার্থী টালারিকো অঙ্গরাজ্যটির অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটনকে পরাজিত করেছেন। টেক্সাসে সর্বশেষ ১৯৯৪ সালে কোনো ডেমোক্র্যাট রাজ্যব্যাপী নির্বাচনে জয় পেয়েছিলেন।

এ ছাড়া ওহাইওতে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান সিনেটর জন হাস্টেডকে পরাজিত করেছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী শেরউড ব্রাউন। এর মধ্য দিয়ে আসনটি রিপাবলিকানদের হাতছাড়া হয়েছে। কানসাসে রিপাবলিকান সিনেটর রজার মার্শালকে হারিয়ে জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ও একটি মেগাচার্চের যাজক অ্যাডাম হ্যামিলটন।

বিদায়ী ১১৯তম কংগ্রেসের ১০০ সদস্যের সিনেটে বর্তমানে রিপাবলিকানদের আসনসংখ্যা ৫৩। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটদের রয়েছে ৪৫টি আসন। এ ছাড়া দুজন স্বতন্ত্র সিনেটর ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে একই ককাসে রয়েছেন। মঙ্গলবারের নির্বাচনী ফলাফলের পর সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতার নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে যাচ্ছে।

এ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ওয়াশিংটনে রিপাবলিকানদের ‘ট্রাইফেক্টা’রও অবসান ঘটতে যাচ্ছে। ২০২৪ সালের নির্বাচনে জয়লাভের পর দলটি যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতার তিনটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র—সিনেট, প্রতিনিধি পরিষদ ও প্রেসিডেন্টের পদ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছিল।

মঙ্গলবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের তুলনায় সিনেটের নিয়ন্ত্রণ বদলানো কঠিন হবে বলে ধারণা করা হয়েছিল। কারণ, সিনেটে নির্বাচনের জন্য তুলনামূলকভাবে কম আসন উন্মুক্ত ছিল।

মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস বা প্রতিনিধি পরিষদের সদস্যদের মেয়াদ দুই বছর। অন্যদিকে সিনেটরদের মেয়াদ ছয় বছর। এ ছাড়া সিনেট নির্বাচন পর্যায়ক্রমে অনুষ্ঠিত হয়। ফলে প্রতিবার নির্বাচনে সিনেটের মোট আসনের মাত্র এক-তৃতীয়াংশে ভোট গ্রহণ করা হয়।

এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে সিনেটের ৩৫টি আসনে ভোট হয়েছে। এর মধ্যে ৩৩টি নিয়মিত নির্বাচন এবং ওহাইও ও ফ্লোরিডায় দুটি বিশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ২০২৫ সালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় প্রশাসনে যোগ দেওয়ার পর তৎকালীন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সিনেটের সদস্যপদ ছেড়ে দেন। তাঁদের ছেড়ে যাওয়া আসন দুটি শূন্য হওয়ায় ওহাইও ও ফ্লোরিডায় বিশেষ নির্বাচনের প্রয়োজন হয়।

মঙ্গলবারের নির্বাচনে অন্তত সাতটি সিনেট আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা ছিল। অঙ্গরাজ্যগুলো হলো আলাস্কা, আইওয়া, কানসাস, মেইন, ওহাইও, টেক্সাস ও মিশিগান। তবে টেক্সাস ও কানসাস সাধারণত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের তালিকায় থাকে না। কারণ, অঙ্গরাজ্য দুটি রিপাবলিকানদের শক্তিশালী ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। কানসাসে সর্বশেষ ১৯৩২ সালে কোনো ডেমোক্র্যাট সিনেটর নির্বাচিত হয়েছিলেন।

এদিকে নিজেদের দখলে থাকা বেশ কয়েকটি আসনও ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি। এর মধ্যে সুইং স্টেট হিসেবে পরিচিত জর্জিয়ায় সিনেটর জন অসফের পুনর্নির্বাচিত হওয়া উল্লেখযোগ্য। পাশাপাশি সিনেটে ১৭ বছর ধরে দায়িত্ব পালন করা মার্ক ওয়ার্নারও ভার্জিনিয়ার প্রতিনিধি হিসেবে নিজের আসন ধরে রেখেছেন।

ট্রাম্পবিরোধী জনমত ও নির্বাচনী ফল


বিশ্লেষকদের মতে, রিপাবলিকানদের পরাজয়ের পেছনে মূল্যস্ফীতি, ট্রাম্পের আরোপ করা শুল্ক, ইরান যুদ্ধ এবং তাঁর আচরণ ও ব্যক্তিগতভাবে সম্পদ অর্জনের বিষয়ে ভোটারদের উদ্বেগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

সিএনএনের ভোটার জরিপে দেখা গেছে, ১০ জনের মধ্যে ছয়জনের বেশি ভোটার ট্রাম্পের কর্মকাণ্ড অনুমোদন করেন না। তাঁদের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশই তাঁর প্রতি তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। জরিপে অংশ নেওয়া দুই-তৃতীয়াংশ ভোটার মনে করেন, ট্রাম্পের নীতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে।

নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল গণনা শেষ না হওয়ায় কংগ্রেসের দুই কক্ষে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার সুনির্দিষ্ট ব্যবধান এখনো নির্ধারিত হয়নি। তবে উভয় কক্ষেই দলটি এমন সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে, যাতে কিছু সদস্যের সমর্থন হারালেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার সুযোগ থাকবে।

ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর বাড়বে নজরদারি


কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে যাওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকাণ্ডের ওপর তদন্ত ও নজরদারির ক্ষমতা বাড়বে বিরোধী দলটির। নিজেদের বিবেচনায় বিভিন্ন বিষয়ে তদন্ত শুরু করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে হাজির করতে সমন জারির ক্ষমতাও পাবে তারা।

অন্যদিকে, সিনেটের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ায় ট্রাম্পের বিচারক নিয়োগের প্রক্রিয়াও আটকে দিতে পারবে ডেমোক্র্যাটরা। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টে কোনো বিচারকের পদ শূন্য হলে সেই পদে ট্রাম্পের মনোনীত প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়াও বাধাগ্রস্ত করতে পারবে দলটি।

তবে কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেলেও নিজেদের পছন্দের আইন ও নীতিগত কর্মসূচি বাস্তবায়নে ডেমোক্র্যাটদের সামনে বাধা থাকবে। কারণ, প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের ভেটো ক্ষমতা রয়েছে। এ ছাড়া সিনেটে অধিকাংশ আইন পাসের জন্য ৬০ ভোটের প্রয়োজন হয়। ফলে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও তাদের পক্ষে নিজেদের সব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা কঠিন হবে।

সব মিলিয়ে মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় পরিবর্তন আনছে। প্রেসিডেন্টের পদ রিপাবলিকানদের হাতে থাকলেও কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে যাওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য আগামী দুই বছর আইন প্রণয়ন, বিচারক নিয়োগ এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি হবে।


মন্তব্য (0)

সাইন-ইন

মন্তব্য প্রকাশের আগে মডারেশন পাস করবে।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!

সর্বশেষ
জনপ্রিয়