চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ পরীক্ষার ব্যবস্থা করতে যাচ্ছে সরকার। এক বা দুই বিষয়ে অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা এ পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে। আগামী এক মাসের মধ্যেই পরীক্ষা আয়োজনের পরিকল্পনা করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) সচিবালয়ে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
তিনি বলেন, এবারই প্রথমবারের মতো এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের পুনরায় পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা তৈরির কাজ চলছে।
অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানান, এবারের পরীক্ষায় মোট ৫ লাখ ৯৪ হাজার ১১৩ জন শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে। এর মধ্যে এক বিষয়ে ফেল করেছে ২ লাখ ৯৮ হাজার ৪০ জন এবং দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে ১ লাখ ২৪ হাজার ৮৬৫ জন।
মন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের একটি শিক্ষাবর্ষ যেন নষ্ট না হয়, সে বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই দ্রুত বিশেষ পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তবে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির জন্য প্রয়োজনীয় সময় দেওয়া হবে। কোনোভাবেই এক মাসের বেশি সময় নেওয়া হবে না।
তিনি আরও বলেন, সাত থেকে আট দিনের মধ্যেও পরীক্ষা আয়োজন করা সম্ভব। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যে পরীক্ষা নিলে শিক্ষার্থীরা যথাযথ প্রস্তুতির সুযোগ পাবে না। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি কার্যক্রমও পিছিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি এবং ভর্তি কার্যক্রম—দুই দিক বিবেচনা করে পরীক্ষার উপযুক্ত সময় নির্ধারণ করা হবে।
অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের হতাশ না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পরীক্ষায় খারাপ ফলাফল মানেই জীবনের শেষ নয়। নতুন করে প্রস্তুতি নিয়ে ভালো ফল করার সুযোগ রয়েছে। যারা এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে, তারা মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করলে পরবর্তী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারবে।
অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ব্যারিস্টার গিয়াস উদ্দিন রিমন, বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামানসহ বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানরা উপস্থিত ছিলেন।
দুই বিষয়ে ফেল করা শিক্ষার্থীদের এক মাসের মধ্যে পরীক্ষা