রাজধানীর মিরপুর-১১ এলাকায় অজ্ঞাত দুর্বৃত্তদের ছোড়া ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় পাপন (২০) নামের এক যুবক গুরুতর দগ্ধ হয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাত ৯টার দিকে মিরপুর-১১ নম্বর সেকশনের একটি ব্যস্ত সড়কে এই ঘটনা ঘটে।
দগ্ধ অবস্থায় পাপনকে দ্রুত উদ্ধার করে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে।
ইনস্টিটিউটের রেসিডেন্ট সার্জন (ইমার্জেন্সি) ডা. সুলতান মাহমুদ শিকদার বিষয়টি নিশ্চিত করে আজ বুধবার সকালে গণমাধ্যমকে বলেন, “গত রাতে দগ্ধ অবস্থায় পাপন নামের ওই যুবককে জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়। ককটেল বিস্ফোরণের আগুনে তাঁর শরীরের প্রায় ২০ শতাংশ পুড়ে গেছে। শ্বাসনালি ও অন্যান্য অঙ্গের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে ভর্তি রেখে নিবিড় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।”
সিসিটিভি ফুটেজে ভয়াবহ বিস্ফোরণ
এদিকে ঘটনার একটি সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ হাতে পেয়েছে পুলিশ। ফুটেজে দেখা যায়, মিরপুর-১১ নম্বর সেকশনে একটি কুরিয়ার সার্ভিসের কার্যালয়ের সামনের ব্যস্ত রাস্তায় বেশ কিছু অটোরিকশা ও রিকশা থেমে ছিল এবং সাধারণ মানুষ চলাচল করছিলেন। হঠাৎ সেখানে থেমে থাকা কয়েকটি অটোরিকশার মাঝে বিকট শব্দে একটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। আতঙ্কিত মানুষ যখন ছোটাছুটি শুরু করেন, তার ঠিক পরপরই সেখানে দ্বিতীয় ককটেলটির বিস্ফোরণ ঘটে এবং চারদিকে আগুন ধরে যায়। ওই আগুনেই পথচারী পাপন মারাত্মকভাবে দগ্ধ হন।
পুলিশের তদন্ত ও অভিযান
ঘটনার পর পর মিরপুর থানা পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। বিস্ফোরণের পর পুরো এলাকায় এক ধরনের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এলাকায় বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
মিরপুর জোনের পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হামলাকারীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে। রাজনৈতিক বা অন্য কোনো নাশকতার উদ্দেশ্যে এই হামলা চালানো হয়েছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
গাজীপুর-সাভারে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, টিয়ার শেল নিক্ষেপ