Morning Times
সাম্প্রতিক
সদ্যসীমান্তের ওপার থেকেও ষড়যন্ত্র হচ্ছে দেশের বিরুদ্ধে: তারেক রহমান সদ্যসৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ বাংলাদেশি নিহত সদ্যডেঙ্গুতে আরও ৩ মৃত্যু, হাসপাতালে ১৬৭৪ সদ্যইতিহাস গড়ে তাওহীদ হৃদয়ের ডাবল সেঞ্চুরি সদ্যনয়াপল্টনে নেতাকর্মীদের ঢল, তারেক রহমানের নেতৃত্বে র‍্যালি শুরু সদ্যজুলাই গণঅভ্যুত্থানের পেছনে ছিল ৭ নভেম্বরের চেতনা: রিজভী সদ্যমানবপাচার চক্র নির্মূলে পাহাড়ে ফের যৌথ বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান, ৩ মরদেহ ঘিরে রহস্য সদ্যআর কেউ যেন এই দেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে না পারে : প্রধানমন্ত্রী সদ্যজামালপুরে ট্রাকচাপায় শিশুসন্তানসহ স্বামী-স্ত্রী নিহত সদ্য‘সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন পরিষদ’ গঠন করবে বিরোধী জোট সদ্যসীমান্তের ওপার থেকেও ষড়যন্ত্র হচ্ছে দেশের বিরুদ্ধে: তারেক রহমান সদ্যসৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ বাংলাদেশি নিহত সদ্যডেঙ্গুতে আরও ৩ মৃত্যু, হাসপাতালে ১৬৭৪ সদ্যইতিহাস গড়ে তাওহীদ হৃদয়ের ডাবল সেঞ্চুরি সদ্যনয়াপল্টনে নেতাকর্মীদের ঢল, তারেক রহমানের নেতৃত্বে র‍্যালি শুরু সদ্যজুলাই গণঅভ্যুত্থানের পেছনে ছিল ৭ নভেম্বরের চেতনা: রিজভী সদ্যমানবপাচার চক্র নির্মূলে পাহাড়ে ফের যৌথ বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান, ৩ মরদেহ ঘিরে রহস্য সদ্যআর কেউ যেন এই দেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে না পারে : প্রধানমন্ত্রী সদ্যজামালপুরে ট্রাকচাপায় শিশুসন্তানসহ স্বামী-স্ত্রী নিহত সদ্য‘সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন পরিষদ’ গঠন করবে বিরোধী জোট
ট্রেন্ডিং ক্রিকেট চলচ্চিত্র জলবায়ু ফুটবল শিক্ষানীতি শেয়ারবাজার

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস আজ দেশের রাজনীতির গতিধারা পাল্টে দেওয়ার দিন

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস আজ দেশের রাজনীতির গতিধারা পাল্টে দেওয়ার দিন
ছবি: সংগৃহীত

আজ ৭ নভেম্বর, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে দিনটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ১৯৭৫ সালের এই দিনে সিপাহি-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন আসে। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী বাণী দিয়েছেন। দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর পর বিএনপি ক্ষমতায় থাকায় এবার ব্যাপক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি উদযাপনের প্রস্তুতি নিয়েছে দলটি।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হওয়ার পর ৩ নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে জাতীয় চার নেতাকে হত্যার ঘটনা দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তোলে। এর ধারাবাহিকতায় সেনাবাহিনীর তৎকালীন উপপ্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খালেদ মোশাররফ তাঁর অনুসারী সেনাসদস্যদের নিয়ে অভ্যুত্থান ঘটান। এ সময় সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের বাসায় গৃহবন্দি করা হয়।

খালেদ মোশাররফ নিজেকে সেনাপ্রধান ঘোষণা করেন এবং ৬ নভেম্বর বঙ্গভবনে গিয়ে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক আহমেদকে গ্রেপ্তার করেন। একই সঙ্গে মন্ত্রিসভা বাতিল ও জাতীয় সংসদ ভেঙে দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। পরে প্রধান বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়।

এ পরিস্থিতিতে ৬ নভেম্বর রাত থেকে সেনাবাহিনীর সাধারণ সিপাহিরা সংগঠিত হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। তাঁদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে সাধারণ মানুষও রাজপথে নেমে আসেন। সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থানে গৃহবন্দি অবস্থা থেকে মুক্ত হন জিয়াউর রহমান। পাল্টা অভ্যুত্থান মোকাবিলার সময় ৭ নভেম্বর সকালে কয়েকজন অনুসারীসহ নিহত হন খালেদ মোশাররফ। পরবর্তী সময়ে জিয়াউর রহমান দেশের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন।

বিএনপি ও দলটির সমর্থকদের দৃষ্টিতে, ৭ নভেম্বরের ঘটনা দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও বহুদলীয় গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। এরপর থেকেই দিনটি জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে পালন করে আসছে বিএনপি।

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দীর্ঘ সময় দিবসটি পালনে বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার অভিযোগ করে আসছিল বিএনপি। এবার প্রায় ২০ বছর পর ক্ষমতায় থেকে দলটি ব্যাপক আয়োজনে দিবসটি উদযাপন করতে যাচ্ছে।

সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি বিএনপির, র‍্যালির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনগুলো ৫ নভেম্বর থেকে ১১ নভেম্বর পর্যন্ত সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ শনিবার বিকেল ৩টায় রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে বর্ণাঢ্য র‍্যালির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শুক্রবার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি জানান, দেশের অধিকাংশ জেলা ও মহানগরেও দিবসটি উপলক্ষে র‍্যালি অনুষ্ঠিত হবে।

ঢাকার র‍্যালিটি নয়াপল্টন থেকে শুরু হয়ে কাকরাইলে প্রধান বিচারপতির বাসভবনের সামনে দিয়ে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়, বাংলামটর ও ফার্মগেট অতিক্রম করে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে গিয়ে শেষ হবে।

এর আগে সকাল সাড়ে ৮টায় শেরেবাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানাবেন প্রধানমন্ত্রীসহ দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা।

এ ছাড়া বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে আলোচনা সভা, আলোকচিত্র প্রদর্শনী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

কর্মসূচির মধ্যে ১০ নভেম্বর যুবদলের আলোচনা সভা, ৫ নভেম্বর শ্রমিক দলের আলোচনা সভা এবং ৯ নভেম্বর কৃষক দলের আলোচনা সভা রয়েছে। একই দিন বিকেলে জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে।

ছাত্রদল ৭ নভেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আলোকচিত্র প্রদর্শনী এবং ৮ নভেম্বর আলোচনা সভার আয়োজন করেছে। ওলামা দল এতিম শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করবে। এ ছাড়া ৮ নভেম্বর দেশের বিভিন্ন থানা ও উপজেলা পর্যায়ে র‍্যালি করবে বিএনপি।

রাষ্ট্রপতির বাণী: ঐক্যবদ্ধভাবে দুর্নীতি ও বৈষম্য দূর করতে হবে

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের সব নাগরিককে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার বিপ্লবে অংশগ্রহণকারী বীর সেনানী ও দেশপ্রেমিক জনতার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন তিনি।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ৭ নভেম্বরের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দুর্নীতি, বৈষম্য ও সব ধরনের ষড়যন্ত্রের অবসানে কাজ করতে হবে। ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ দর্শনের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালিত হবে এবং জাতীয় স্বার্থ, সাম্য, ন্যায্যতা ও গণতন্ত্রচর্চা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে।

তিনি আরও বলেন, জাতীয় জীবনে বিপ্লব ও সংহতির গুরুত্ব অপরিসীম। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র, আইনের শাসন, বাক্‌স্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছিলেন। পাশাপাশি অর্থনৈতিক মুক্তি ও সামাজিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করেছিলেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, জিয়াউর রহমান বাংলাদেশকে নতজানু পররাষ্ট্রনীতি থেকে মুক্ত করে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়েছিলেন। জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার পাশাপাশি সর্বস্তরে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রেখেছিলেন।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নির্বাচিত সরকারের নেতৃত্বে দেশ আবারও গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করেছে। এ অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানসহ রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠানকে আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।

প্রধানমন্ত্রীর বাণী: ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের পথ নির্ধারণ করেছিল

দিবসটি উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ১৯৭৫ সালের ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার বিপ্লব বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পথ নির্ধারণ করেছিল।

তিনি বলেন, যারা বাংলাদেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে চেয়েছিল, জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করে একদলীয় স্বৈরাচারী শাসন প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছিল এবং দেশের গৌরবের প্রতীক সেনাবাহিনীর সম্মান ক্ষুণ্ন করতে চেয়েছিল, ৭ নভেম্বরের দেশপ্রেমিক সিপাহি-জনতার বিপ্লবে তাদের পরাজয় ঘটেছিল।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই দিন সিপাহি ও সাধারণ মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে সব ষড়যন্ত্র রুখে দিয়েছিলেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে দিনটি ছিল শত্রু-মিত্র চিহ্নিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত।

দিবসটি উপলক্ষে জাতীয়ভাবে গৃহীত সব কর্মসূচির সাফল্য কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী।

মন্তব্য (0)

সাইন-ইন

মন্তব্য প্রকাশের আগে মডারেশন পাস করবে।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!

সর্বশেষ
জনপ্রিয়