২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পেছনে ৭ নভেম্বরের চেতনা কাজ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং বহুদলীয় গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করার প্রত্যয় নিয়েই দেশের মানুষ জুলাইয়ে আন্দোলনে নেমেছিল।
রিজভী বলেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে তারেক রহমানের নেতৃত্বে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ করছেন প্রধানমন্ত্রী। বিএনপি সরকার ফ্যামিলি কার্ড, খাল খনন ও বৃক্ষরোপণসহ বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে শনিবার (৭ নভেম্বর) সকালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, ২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসে তৎকালীন সরকার আবারও জনগণের অধিকার কেড়ে নেয়। দেশকে ভয়াবহ ফ্যাসিবাদের দিকে ঠেলে দেওয়া হয়। গুম, খুন ও গুপ্তহত্যার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করা হয়। মানুষ ভয়ে কথা বলতে পারত না, এমনকি রাস্তায় চলাচল করতেও ভয় পেত। এ পরিস্থিতিতে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতা ও শ্রমিকেরা রাজপথে নামেন। গণঅভ্যুত্থানের মুখে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হতে হয়।
তিনি বলেন, ৭ নভেম্বরের চেতনার মূল ভিত্তি হলো স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং বহুদলীয় গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা। এই চেতনা ধারণ করেই দেশের মানুষ গণতন্ত্রবিরোধী শক্তিকে পরাজিত করেছে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরে আসে। তাঁর বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে বাংলাদেশ উন্নয়ন ও উৎপাদনে এগিয়ে যায়। খাল খনন, স্বনির্ভর কর্মসূচি, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন এবং স্বাক্ষরতা অভিযানের মাধ্যমে জাতি নিজের পায়ে দাঁড়ানোর সুযোগ পায়। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মর্যাদাশীল রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে বাংলাদেশ।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ কোনো আধিপত্যবাদের থাবার মধ্যে পড়বে না। দেশের সার্বভৌমত্ব শক্তিশালী করার অঙ্গীকার নিয়েই ৭ নভেম্বরের বিপ্লব ও পরবর্তী সময়ে দেশের মানুষ গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা রক্ষার প্রত্যয় খুঁজে পেয়েছিল।
রিজভী বলেন, ৩ নভেম্বর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের বাসায় গ্রেপ্তার করে রাখা হয়। পরবর্তী সময়ে তিনি মুক্তি লাভ করেন। এর মধ্য দিয়ে জাতি আবার নতুন করে পথের দিশা পায়।
তিনি বলেন, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রকারীরা থেমে থাকেনি। চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে দেশের একজন মহান জাতীয়তাবাদী ও দেশপ্রেমিক রাষ্ট্রনায়ককে হত্যা করা হয়। তবে ৭ নভেম্বরের মুক্তি, গণতন্ত্র, স্বাধীনতা রক্ষা এবং সার্বভৌমত্ব শক্তিশালী করার চেতনায় জাতি বারবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে।
বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সহধর্মিণী ও গণতন্ত্রের আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে স্বৈরশাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের বিরুদ্ধে টানা নয় বছরের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ১৯৯০ সালে দেশে আবার গণতন্ত্র ফিরে আসে।
রিজভী বলেন, ৭ নভেম্বরের চেতনা পরবর্তী সময়ে ছাত্র-জনতাকে আন্দোলনে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। ২০০৯ সালে পুরোনো বাকশালের নতুন প্রেতাত্মার আবির্ভাব ঘটে। পরাজিত শক্তি ক্ষমতায় এসে জনগণের অধিকার কেড়ে নেয় এবং দেশকে ভয়াবহ ফ্যাসিবাদের দিকে ঠেলে দেয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিভিন্ন কর্মসূচি প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, ক্ষমতায় আসার আগে জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ করছেন তিনি। কোনো মিথ্যা আশ্বাস বা প্রতিশ্রুতি দেননি প্রধানমন্ত্রী। ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে হতদরিদ্র মানুষকে স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দুই-তিন দিন পর থেকেই এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেন তিনি।
রিজভী বলেন, ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে ১ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করা হয়েছে। পাশাপাশি সারা দেশে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি চলছে। বিএনপির পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনও সামাজিক বনায়ন কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছে।
দেশের বর্তমান পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোথাও কোথাও গলির ভেতর থেকে ককটেল ও বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটানো হচ্ছে। পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে এসব কর্মকাণ্ডের নির্দেশনা আসছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
রিজভী আরও বলেন, জনগণ এসব অপচেষ্টা যথাযথভাবে প্রতিহত করবে। সরকার এ ব্যাপারে প্রস্তুত রয়েছে। তবে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করা ব্যক্তিদের কর্মকাণ্ডও জনগণ পর্যবেক্ষণ করছে। এসব কর্মকাণ্ড জনগণ কখনো ক্ষমা করবে না।
তিনি বলেন, বিএনপি ও জাতীয়তাবাদী শক্তি ৭ নভেম্বরের বিপ্লব ও সংহতি দিবসের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সব অগণতান্ত্রিক ও দেশবিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে প্রস্তুত রয়েছে। দেশের মানুষের নাগরিক স্বাধীনতা এবং উন্নয়ন ও উৎপাদনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল সমর্থক ও সহযোগী হিসেবে কাজ করবে।
এ সময় বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক এবং বিএনপির প্রচার সম্পাদক ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক আব্দুস সালাম উপস্থিত ছিলেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পেছনে ছিল ৭ নভেম্বরের চেতনা: রিজভী
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পেছনে ৭ নভেম্বরের চেতনা কাজ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, স্বাধীনতা ও সার্বভৌ
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
যে কোনো প্রেক্ষাপটে কারখানা চালু রাখার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
২সীমান্তের ওপার থেকেও ষড়যন্ত্র হচ্ছে দেশের বিরুদ্ধে: তারেক রহমান
৩সচিবালয়ে সার্বক্ষণিক পরিচয়পত্র প্রদর্শনের নির্দেশ
৪সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ বাংলাদেশি নিহত
৫টাঙ্গাইলে ধর্ষণের পর ইট দিয়ে মুখ থেঁতলে দেয়া সেই শিশুকে প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তর
তুরাগে লাশ উদ্ধারের আগেই অতিরিক্ত ডিআইজি জহিরের বাসায় গ্রেপ্তার তৌসিফের বোন!
২সাংবাদিকের ডান হাতে সমস্যা, তবু ‘ব্যাডটাচের’ অভিযোগ পরীমনির
৩এক মিনিটে ২ খুন, গুলি ছুড়তে ছুড়তে বীরদর্পে চলে যায় ৬ মুখোশধারী
৪পরমাণু হামলা চালাবে যুক্তরাষ্ট্র, নাগরিকদের সতর্ক করল ইরান
৫‘আমার মৃত্যুর জন্য ইউএনও দায়ী’, এসিল্যান্ডের ফেসবুক পোস্ট ঘিরে তোলপাড়
সীমান্তের ওপার থেকেও ষড়যন্ত্র হচ্ছে দেশের বিরুদ্ধে: তারেক রহমান