রাজবাড়ীর পাংশায় প্রবাসফেরত আব্দুর রহিম হত্যা মামলায় সাদ্দাম মিয়া (৩৪) নামের এক যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলার অপর তিন আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাজবাড়ী জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আনিসুর রহমান জনাকীর্ণ আদালতে এই রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডিত সাদ্দাম মিয়া ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার বাসিন্দা শহিদ মিয়ার ছেলে। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
টাকা ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে হত্যাকাণ্ড
আদালত ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালে আব্দুর রহিমের ছোট ভাইকে চাকরি দেওয়ার কথা বলে তাঁর কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা নেন সাদ্দাম মিয়া। তবে চাকরি দিতে ব্যর্থ হওয়ায় আব্দুর রহিম তাঁর দেওয়া টাকা ফেরত চান। এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়।
টাকা ফেরত চাওয়ার জেরে ওই বছরের ৫ নভেম্বর পাংশার একটি ক্যান্টিনের সামনে আব্দুর রহিমকে ডেকে নেন সাদ্দাম। সেখানে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে সাদ্দাম ধারালো ছুরি দিয়ে রহিমকে উপর্যুপরি আঘাত করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে স্থানীয় হাসপাতাল এবং পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮ নভেম্বর আব্দুর রহিমের মৃত্যু হয়।
দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া ও রায়
আব্দুর রহিমের মৃত্যুর পর তাঁর স্ত্রী বাদী হয়ে পাংশা থানায় সাদ্দাম মিয়াসহ চারজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত শেষে পাংশা থানা পুলিশ আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে। পরবর্তী সময়ে আদালতে দীর্ঘ সাক্ষ্যগ্রহণ, জেরা ও উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে গতকাল এই রায় ঘোষণা করা হয়।
রায়ের পর আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আশরাফুল ইসলাম আশা সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “দীর্ঘদিনের সাক্ষ্য-প্রমাণ ও নথিপত্র পর্যালোচনা করে আদালত প্রধান আসামি সাদ্দাম মিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। তবে রাষ্ট্রপক্ষ অন্য তিন আসামির বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণ করতে না পারায় আদালত তাদের সসম্মানে খালাস দিয়েছেন। আমরা আদালতের এই রায়ে সন্তুষ্ট।”
রায় ঘোষণার পর দণ্ডিত সাদ্দাম মিয়াকে কঠোর পুলিশ পাহারায় রাজবাড়ী জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে খালাস পাওয়া তিন আসামির পরিবারে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
গাজীপুর-সাভারে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, টিয়ার শেল নিক্ষেপ