যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের (Midterm Election) ভোটগ্রহণ শেষ হয়ে ভোটকেন্দ্রগুলো বন্ধ হতে শুরু করার পর বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের কাছে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প বেশ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানান, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটরা পেলেও দেশের ‘চূড়ান্ত ক্ষমতা’ তাঁর হাতেই থাকবে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, “কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটরা পেলেও ‘চূড়ান্ত ক্ষমতা’ আমার হাতেই আছে। একে বলা হয় ‘ভিটো’ (Veto) ক্ষমতা।” এর মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা কোনো বিল বা আইন পাস করতে চাইলেও প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি তাঁর বিশেষ ‘ভিটো’ ক্ষমতা প্রয়োগ করে তা আটকে দিতে পারবেন।
ভোট গণনা শুরু, ডেমোক্র্যাটদের প্রাথমিক জয়
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ভোট গণনা শুরু হওয়ার পর কয়েকটি আসনে ইতিমধ্যে জয় পেয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে যাবে, তা নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের (House of Representatives) সবকটি (৪৩৫টি) আসন এবং সিনেটের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ (৩৫টি) আসনে ভোট হচ্ছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিছু অঙ্গরাজ্যে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর প্রাথমিক ফলাফল আসতে শুরু করেছে। প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে ডেমোক্র্যাটদের যথাক্রমে অন্তত তিনটি ও চারটি আসন নিজেদের দখলে নিতে হবে। জরিপ ও নির্দলীয় বিশ্লেষকদের ধারণা, প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ রিপাবলিকানদের কাছ থেকে ডেমোক্র্যাটদের হাতে চলে যেতে পারে। তবে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে এখনো তীব্র অনিশ্চয়তা রয়েছে।
ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের ‘অগ্নিপরীক্ষা’
এই নির্বাচনকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের জন্যও একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ এবং এর ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মার্কিন ভোটারদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। এসব অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক সংকটের কারণে ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা তাঁর মেয়াদের সর্বনিম্ন পর্যায়ের কাছাকাছি এসে ঠেকেছে।
গভর্নর ও গণভোটও সমান গুরুত্বপূর্ণ
এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের দুই কক্ষের (সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদ) পাশাপাশি ৩৬টি অঙ্গরাজ্যে নতুন গভর্নর নির্বাচনের জন্য ভোট নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের স্থানীয় আইনসভা এবং একাধিক নীতিগত বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ গণভোটেও (Referendum) মার্কিন নাগরিকেরা তাঁদের মতামত দিচ্ছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, যদি শেষ পর্যন্ত ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ পেয়ে যায়, তবে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের অবশিষ্ট সময় নীতি নির্ধারণ ও বাজেট পাসের ক্ষেত্রে তীব্র প্রশাসনিক অচলাবস্থা বা ‘গ্রিডলক’ (Gridlock) তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে কংগ্রেসের তদন্ত কমিটির মুখোমুখি হওয়ার বড় চাপও থাকবে তাঁর ওপর। তবে প্রেসিডেন্টের এমন ‘ভিটো’ প্রয়োগের হুঁশিয়ারি প্রমাণ করে, বিরোধী শিবিরের জয়েও তিনি সহজে দমে যাওয়ার পাত্র নন।
গাজীপুর-সাভারে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, টিয়ার শেল নিক্ষেপ