সরকার ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সমালোচনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট, ভিডিও কিংবা ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশের পর একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার ও আটকের ঘটনায় বাংলাদেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনায় আইন প্রয়োগের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মানবাধিকারকর্মীরা।
সর্বশেষ ২৫ অক্টোবর ময়মনসিংহের ভালুকায় নারী উদ্যোক্তা সাথী আক্তারকে আটক করে পুলিশ। নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চুরির ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে ফেসবুক লাইভে বিএনপিকে ভোট দিয়েও ভোগান্তিতে পড়ার কথা বলেছিলেন তিনি। পরে তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। পুলিশ জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।
হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) তথ্য অনুযায়ী, জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সাইবার সুরক্ষা আইনে ১০টি মামলায় ৩২ জনকে অভিযুক্ত এবং ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। অন্যদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতপ্রকাশের কারণে গত কয়েক মাসে ২২ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন বলে দাবি করেছেন এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।
এর আগে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট, বিদ্যুৎ বিল নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ এবং সংসদের চিফ হুইপকে নিয়ে ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশের ঘটনাতেও গ্রেপ্তার ও আটকের ঘটনা ঘটে। কয়েকটি ঘটনায় মানহানি, ব্ল্যাকমেইল ও নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও সামনে এসেছে।
মানবাধিকারকর্মীদের মতে, সরকারের সমালোচনা আর অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড এক বিষয় নয়। সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার স্বীকৃতি থাকলেও আইনসম্মত যুক্তিসংগত বিধিনিষেধের সুযোগ রয়েছে। তাই প্রতিটি ঘটনায় অভিযোগের ভিত্তি, প্রমাণ এবং আইন প্রয়োগের যৌক্তিকতা যাচাই করা জরুরি।
তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমানও বলেছেন, শুধু বক্তব্যের কারণে কারও বিরুদ্ধে বাড়াবাড়ি করা উচিত নয়। অন্যদিকে পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি খন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেছেন, রাজনৈতিক সমালোচনার অধিকার সবার থাকলেও ইচ্ছাকৃত মিথ্যা তথ্য দিয়ে অপবাদ দেওয়ার বিষয়টি আলাদা।
গ্রেপ্তারের ঘটনাগুলো ঘিরে উঠছে প্রশ্ন