খুলনায় একের পর এক গুলির ঘটনায় উদ্বেগ ও ক্ষোভ বাড়ছে। এবার বটিয়াঘাটায় প্রকাশ্যে গুলি করা হয়েছে যুবদলের সাবেক এক নেতাকে। মোটরসাইকেলে এসে তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্কের পাশাপাশি রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ক্ষোভ প্রকাশ করে এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেছেন, এভাবে চলতে থাকলে তাঁরা বিএনপির রাজনীতি ছেড়ে দেবেন।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে বটিয়াঘাটা উপজেলার ১ নম্বর জলমা ইউনিয়নের চক্রাখালী বাজারসংলগ্ন বাদশা মুন্সির দোকানের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
গুলিবিদ্ধ অহিদুল ইসলাম বাদলের (৩৫) বাড়ি উপজেলার তেঁতুলতলা গ্রামে। তিনি আলতাফ হাওলাদারের ছেলে। বাদল জলমা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক সভাপতি এবং ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি পদপ্রার্থী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, খুলনা জেলা যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি শেষে নিজ এলাকায় ফিরছিলেন বাদল। পথে চক্রাখালী বাজারসংলগ্ন বাদশা মুন্সির দোকানের সামনে পৌঁছালে মোটরসাইকেলে আসা অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্তরা তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়।
পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় চা-দোকানি বাদশা মুন্সি নিজেকে বাদলের ফুফাতো ভাই পরিচয় দিয়ে বলেন, তিনি তখন দোকানে চা তৈরি করছিলেন। তাঁর চোখের সামনেই বাদলকে লক্ষ্য করে দুই রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়।
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ক্ষোভ প্রকাশ করে বাদশা মুন্সি বলেন, ‘আমরা এই বিএনপি আর করতে চাই না। দল যদি এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড দমন করতে না পারে, তাহলে আমরা সবাই এই দল ছেড়ে যাব।’ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেও এমন পরিস্থিতি ছিল না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বাদলকে দেখতে হাসপাতালে এসে আরও কয়েকজন ব্যক্তি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁদের কেউ কেউ দল ছেড়ে দেওয়ার কথাও বলেছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
তবে এসব বক্তব্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়া। গুলির ঘটনার সঙ্গে রাজনৈতিক বিরোধের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
খুলনা জেলা পুলিশের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, অহিদুল ইসলাম বাদলের বিরুদ্ধে হত্যা মামলাসহ মোট আটটি মামলা রয়েছে। তবে এসব মামলার বর্তমান অবস্থা, অভিযোগের ধরন কিংবা কোনো মামলায় তাঁর দণ্ড হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি। তাঁর বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর সঙ্গে গুলির ঘটনার কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা-ও স্পষ্ট নয়।
খুলনা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবির সিদ্দিকী শুভ্র ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, খবর পেয়ে বটিয়াঘাটা থানা-পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে গোয়েন্দা নজরদারিও চালানো হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। সূত্র: টাইমস টুডে
ক্রসফায়ার চায় না সরকার, আইজিপির বক্তব্য ঠিক হয়নি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী