তৈরি পোশাক (RMG) খাতের শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করাসহ বিভিন্ন দাবিতে ঢাকার সাভার ও আশুলিয়ায় চলমান আন্দোলনে উসকানি ও ধ্বংসাত্মক কাজে সহায়তার অভিযোগে তিন শীর্ষ শ্রমিক নেতাকে আটক করা হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দিবাগত রাতে ঢাকা জেলা (উত্তর) পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পৃথক অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করে।
আটক হওয়া ব্যক্তিরা হলেন:১. মো. হালিম - সাধারণ সম্পাদক, জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন (আশুলিয়া থানা কমিটি)।২. মো. শামীম - ভারপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ট্রেড ইউনিয়ন।৩. মো. মনসুর আলী - সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক, বাংলাদেশ টেক্সটাইল গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন (কেন্দ্রীয় কমিটি)।
ডিবি পুলিশ জানায়, আটক হওয়া তিনজনের মধ্যে মো. হালিমকে আশুলিয়ার বসুন্ধরা সোনিয়া মার্কেট এলাকা থেকে এবং মো. শামীম ও মো. মনসুর আলীকে জিরাবো এলাকা থেকে আটক করা হয়েছে।
ডিবি পুলিশের বক্তব্য
আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে ঢাকা জেলা উত্তর ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদুল ইসলাম বলেন, “সাভার ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনের নামে ভাঙচুর, সহিংসতা, অরাজকতা সৃষ্টি ও ধ্বংসাত্মক কাজে ইন্ধন জোগানোর সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে এই তিন শ্রমিক নেতাকে আটক করা হয়েছে। আজ বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে তাঁদের আইনি প্রক্রিয়া শেষে আশুলিয়া থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।”
আটকের প্রতিবাদ ও মুক্তির দাবি
এদিকে, তিন শ্রমিক নেতাকে আটকের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছেন বাংলাদেশ গার্মেন্টস ও সোয়েটার্স শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আইনবিষয়ক সম্পাদক খায়রুল মামুন। তিনি অবিলম্বে আটক নেতাদের নিশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়েছেন।
খায়রুল মামুন গণমাধ্যমকে বলেন, “শিল্পাঞ্চলের চলমান সংকট নিরসনে সংলাপ ও আলোচনার পথ বেছে না নিয়ে এভাবে মধ্যরাতে গ্রেপ্তার, পুলিশের হামলা বা মামলা কোনো স্থায়ী সমাধানের পথ হতে পারে না। বরং এ ধরনের অগণতান্ত্রিক পদক্ষেপ সাধারণ শ্রমিকদের আরও বেশি ক্ষুব্ধ ও উত্তেজিত করে তুলবে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “শ্রমিকদের যৌক্তিক দাবি মেনে নিয়ে মালিকপক্ষ, সরকার এবং শ্রমিক নেতাদের মধ্যে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমেই এই উদ্ভূত পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ সমাধান করতে হবে। হয়রানি বন্ধ না হলে রাজপথে শ্রমিক অসন্তোষ আরও বাড়তে পারে।”
উলেখ্য, সাভার ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে গত কয়েকদিন ধরে ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে শ্রমিকদের তুমুল বিক্ষোভ, রাজপথ অবরোধ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঢাকা জেলা পুলিশ, ডিবি ও শিল্প পুলিশের অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন রয়েছে। ঘটনার পর থেকে পুরো আশুলিয়া ও জিরাবো এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন: কংগ্রেসের দুই কক্ষেই নিয়ন্ত্রণ হারাল ক্ষমতাসীনরা