স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বর্তমানে ‘আওয়ামী বাংলাদেশ’ শাখার সভানেত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। তাঁর দাবি, বিএনপির মনোনয়ন না পাওয়ার পর থেকে রুমিন ফারহানা আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার ভাষায় কথা বলছেন।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ঝিনাইদহ শহরের জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের জামে মসজিদে জুমার নামাজ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন রাশেদ খাঁন।
তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে রুমিন ফারহানা বিএনপির পক্ষে এবং আওয়ামী লীগ, জামায়াত ও এনসিপির বিরুদ্ধে জোরালো বক্তব্য দিয়েছিলেন। শুধু মনোনয়ন না পাওয়ার কারণে তিনি বিএনপির বিরুদ্ধে লাগাতার মিথ্যাচার ও বিষোদ্গার করছেন এতে তিনি নিজেও অবাক হয়েছেন বলে মন্তব্য করেন রাশেদ খাঁন।
তিনি আরও বলেন, ‘অনেকটা রুমিন ফারহানা শেখ হাসিনার ভাষায় কথা বলছেন। গতকাল দেখলাম, তিনি একজন ওসিকে বলছেন, “আওয়ামী লীগের চোর”।’
রাশেদ খাঁনের অভিযোগ, রুমিন ফারহানা প্রতিনিয়ত আওয়ামী লীগের পক্ষে বক্তব্য দিচ্ছেন। তাঁর ভাষ্য, কোনো পুলিশ কর্মকর্তা আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হলেও রুমিন ফারহানার তাঁর পক্ষে থাকার কথা। প্রয়োজন অনুযায়ী আওয়ামী লীগকে ব্যবহার করে পরে দলটির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।
রাশেদ খাঁন বলেন, আগে রুমিন ফারহানা আওয়ামী লীগের বিরোধিতা করতেন। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এনসিপি ও জামায়াতেরও সমালোচনা করতেন এবং বিএনপির প্রতি সমর্থন ছিল তাঁর। তবে বিএনপির মনোনয়ন না পাওয়ার পর থেকে তাঁর বক্তব্যের ধরন বদলে গেছে বলে দাবি করেন তিনি।
রুমিন ফারহানার থানায় যাওয়া প্রসঙ্গে রাশেদ খাঁন বলেন, তিনি একদিকে বলছেন, জনগণ তাঁকে নিরাপত্তা দেবে এবং পুলিশের নিরাপত্তার প্রয়োজন নেই; অন্যদিকে তিনি থানায় গেছেন। পুলিশের নিরাপত্তার প্রয়োজন না থাকলে তিনি থানায় কেন গিয়েছেন এবং কী অভিযোগ জানাতে গিয়েছেন, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
পার্বত্য চট্টগ্রাম প্রসঙ্গে রাশেদ খাঁন বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশের অংশ। পাহাড়কে অশান্ত করতে গুজব ও অপপ্রচার ছড়ানো হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, কিছু বিচ্ছিন্ন গোষ্ঠী প্রতিবেশী দেশের সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর পৃষ্ঠপোষকতায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। প্রতিবেশী কয়েকটি দেশ দীর্ঘদিন ধরে পার্বত্য অঞ্চল নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে এবং পাহাড়ের কিছু সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী তৎপর রয়েছে। পাহাড়ের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সেনাসদস্যরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন। পাহাড়ের নিরীহ বাসিন্দারাও শান্তি ও স্থিতিশীলতা চান। সরকার কোনোভাবেই বিশৃঙ্খলা সহ্য করবে না।
ভারতের সঙ্গে আঁতাত করে আওয়ামী লীগকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে বিএনপি—জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের এমন মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় রাশেদ খাঁন বলেন, নির্বাচনের আগে ভারতের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে জামায়াত নেতাদের গোপন বৈঠক হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন।
রাশেদ খাঁনের আরও অভিযোগ, জামায়াত এখনো ভারতের সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ রাখছে। ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগকে ফিরিয়ে আনার উদ্দেশ্যে দলটি অপতৎপরতা শুরু করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জামায়াতের খুলনা বিভাগীয় লংমার্চ কর্মসূচির সমালোচনা করে রাশেদ খাঁন বলেন, দলটি এর আগে রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও রংপুর অভিমুখে লংমার্চ করেছে। তবে জামায়াত ও এনসিপির এসব কর্মসূচি জনগণ গ্রহণ করেনি বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর মতে, খুলনার লংমার্চও সফল হবে না।
রাশেদ খাঁন বলেন, জামায়াত জনগণের কল্যাণে কোনো কর্মসূচি দেয় না। তাই দলটির লংমার্চ নিয়ে সরকার কিছু ভাবছে না।
এ সময় ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) ঝিনাইদহ জেলা সভাপতি মো. হাসানুজ্জামানসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
আজ জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, সফর সঙ্গী হচ্ছেন যারা