গাজীপুরে বেতন বাড়ানোর দাবিতে চলমান পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনের সময় ভাঙচুরের ভিডিও ধারণ করায় তৌফিক (২৪) নামের এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন অভিযোগ করেছেন, শ্রমিক পরিচয়ধারী আওয়ামী দুর্বৃত্তরা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দিবাগত রাত ১২টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই দাবি করেন।
ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খাঁন জানান, গত ২ অক্টোবর আনুমানিক দুপুর ২টা ৩০ মিনিটের দিকে গাজীপুর জেলার সদর উপজেলার পূর্ব মির্জাপুরে ‘নোমান টেরি টাওয়েল লিমিটেড’ ও ‘তালহা ফেব্রিকস লিমিটেড’-এর শ্রমিকরা ৩০ হাজার টাকা বেতনের দাবিতে আন্দোলনে নামেন। ওই সময় শ্রমিক পরিচয়ধারী অনেকেই হঠাৎ সহিংস হয়ে ওঠেন। কেউ কেউ গার্মেন্টসের গেট ও প্রতিষ্ঠান ভাঙার জন্য উশৃঙ্খলতা প্রদর্শন করতে থাকেন।
ভিডিও করতে গিয়ে প্রাণ গেল তৌফিকের
রাশেদ খাঁন বলেন, “সহিংসতার ওই সময় তৌফিক নামের এক যুবক সেখানে মোবাইলে ভিডিও ধারণ করতে যান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শ্রমিক পরিচয়ধারী দুর্বৃত্তরা তাঁকে এলোপাতাড়ি মারধর করে। মারধরের একপর্যায়ে তিনি মাথায় গুরুতর আঘাত পান। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় কে বা কারা তাঁকে সেখান থেকে উদ্ধার করে ঢাকার উত্তরার শিন শিন জাপান হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ (মঙ্গলবার) সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে তৌফিক মারা যান।”
‘উদ্দেশ্য দেশে অরাজকতা ও আরেকটি ১/১১ সৃষ্টি’
তৌফিকের মৃত্যুর ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী বলেন, “এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনা প্রমাণ করে শ্রমিক আন্দোলন এখন আর সাধারণ শ্রমিকদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। দেশকে অশান্ত করতে আওয়ামী দুর্বৃত্তরা নতুন করে চক্রান্ত শুরু করেছে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, “শ্রমিক বেশে হত্যার ঘটনা ঘটিয়ে মূলত আরও বড় ধরনের শ্রমিক বিক্ষোভ উসকে দেওয়া হচ্ছে। দেশে অরাজকতা সৃষ্টির মাধ্যমে আরেকটি ১/১১-এর মতো পরিস্থিতি তৈরি করাই তাদের মূল উদ্দেশ্য।”
জামায়াত ও এনসিপি-কে রাজপথে নামার আহ্বান
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশের অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোকে সতর্ক থাকার তাগিদ দিয়ে রাশেদ খাঁন বলেন, “আমি জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপিসহ গণতান্ত্রিক দলগুলোকে বলব, আওয়ামী দুর্বৃত্তদের চক্রান্ত প্রতিহত করতে রাজপথে নামুন। তাদের পাতা ফাঁদে পা দিলে নিজেরাও যে রক্ষা পাবেন না, তা কিন্তু মনে রাখতে হবে।”
হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ইতিমধ্যে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি তদন্তের কাজ শুরু করেছে পুলিশ।
গাজীপুর-সাভারে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, টিয়ার শেল নিক্ষেপ