Morning Times
সাম্প্রতিক
সদ্যঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক মিল্টন, সদস্যসচিব জাহাঙ্গীর সদ্যমেম্বার-চেয়ারম্যান নির্বাচিত করবে এমপি, আওয়াজ করা যাবে না: নলা নিয়ে বাড়িতে যাইতে পারবেন না সদ্য৩১৮ কারখানা বন্ধ, কাজে নেই ৭ লাখ শ্রমিক সদ্যতাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় দিশার ৪ দিনের রিমান্ড সদ্যএমপির ভাতিজা থেকে বিএনপি নেতার স্ত্রী, সার ডিলার নিয়োগ নিয়ে তোলপাড় সদ্যমিরপুরে পুলিশের গাড়িতে আগুন, আ.লীগ-ছাত্রলীগের ১১ নেতাকর্মী আটক সদ্যআশুলিয়ায় শ্রমিক বিক্ষোভ, ছুটি ৫০ কারখানায় সদ্যআতঙ্কিত হবেন না, ৭০০টির মধ্যে ৫টি অটোরিকশার নিবন্ধন পাবেন সদ্যতাহসিফের মৃত্যুতে ‘বন্ধু’ দীপের জড়িত থাকার প্রমাণ মিলেছে, সেই তরুণীও গ্রেপ্তার সদ্যশ্রমিক বিক্ষোভের মধ্যে গাজীপুরে ঝুটের গুদামে আগুন, বিজিবির পাহারায় ফায়ার সার্ভিস সদ্যঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক মিল্টন, সদস্যসচিব জাহাঙ্গীর সদ্যমেম্বার-চেয়ারম্যান নির্বাচিত করবে এমপি, আওয়াজ করা যাবে না: নলা নিয়ে বাড়িতে যাইতে পারবেন না সদ্য৩১৮ কারখানা বন্ধ, কাজে নেই ৭ লাখ শ্রমিক সদ্যতাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় দিশার ৪ দিনের রিমান্ড সদ্যএমপির ভাতিজা থেকে বিএনপি নেতার স্ত্রী, সার ডিলার নিয়োগ নিয়ে তোলপাড় সদ্যমিরপুরে পুলিশের গাড়িতে আগুন, আ.লীগ-ছাত্রলীগের ১১ নেতাকর্মী আটক সদ্যআশুলিয়ায় শ্রমিক বিক্ষোভ, ছুটি ৫০ কারখানায় সদ্যআতঙ্কিত হবেন না, ৭০০টির মধ্যে ৫টি অটোরিকশার নিবন্ধন পাবেন সদ্যতাহসিফের মৃত্যুতে ‘বন্ধু’ দীপের জড়িত থাকার প্রমাণ মিলেছে, সেই তরুণীও গ্রেপ্তার সদ্যশ্রমিক বিক্ষোভের মধ্যে গাজীপুরে ঝুটের গুদামে আগুন, বিজিবির পাহারায় ফায়ার সার্ভিস
ট্রেন্ডিং ক্রিকেট চলচ্চিত্র জলবায়ু ফুটবল শিক্ষানীতি শেয়ারবাজার
মর্নিং টাইমস ডেস্ক ১ নভেম্বর ২০২৬, ৫:০৩ পিএম
আপডেট: ১ নভেম্বর ২০২৬, ৬:০৬ পিএম

এমপির ভাতিজা থেকে বিএনপি নেতার স্ত্রী, সার ডিলার নিয়োগ নিয়ে তোলপাড়

এমপির ভাতিজা থেকে বিএনপি নেতার স্ত্রী, সার ডিলার নিয়োগ নিয়ে তোলপাড়
ছবি: সংগৃহীত

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে নতুন সার ডিলার নিয়োগের তালিকা প্রকাশের পর শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা। তালিকায় স্থানীয় সংসদ সদস্যের আপন ভাতিজার পাশাপাশি বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের একাধিক নেতা এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের নাম থাকায় নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

নিয়োগে দলীয় প্রভাব, স্বজনপ্রীতি ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ করেছেন ডিলারশিপ থেকে বঞ্চিত আবেদনকারীরা। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

জানা গেছে, গত ৭ অক্টোবর টাঙ্গাইলের ১২টি উপজেলায় নতুন সার ডিলারদের তালিকা প্রকাশ করা হয়। এরপর থেকেই নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন অনেকে। ডিলারশিপ না পাওয়া কয়েকজনের অভিযোগ, দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে রাজনৈতিক পরিচয় ও আত্মীয়তার সম্পর্ককে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।

বানাইল ইউনিয়ন ওলামা দলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন টিটু ফেসবুকে লিখেছেন, ‘যার কোনো দোকান নাই, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নাই, কোনো গোডাউন ঘর নাই, সে কীভাবে সারের ডিলার পায়?’

মির্জাপুর উপজেলা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সহযোগী সংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক জুবায়েদ ইসলাম নিঝুমও এ বিষয়ে ফেসবুকে দুটি পোস্ট দিয়েছেন। এর একটিতে তিনি লিখেছেন, ‘সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে সরকারি সারের ডিলার নিয়োগে ব্যাপক দলীয়করণ, স্বজনপ্রীতি এবং অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু এখানে (মির্জাপুর) এমপির ভাতিজা ও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও ছেলে বিএনপির লোকজন ও নিকট আত্মীয়রা স্থান পেয়েছে।’

তালিকায় এমপির ভাতিজা, বিএনপি নেতা ও স্বজনেরা

সার ডিলারদের তালিকা ও দলীয় সূত্রে জানা যায়, মির্জাপুর পৌরসভা ও ১৪টি ইউনিয়নে নতুন ডিলার নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। ডিলারশিপ পেতে উপজেলায় আবেদন করেন ১১২ জন। উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সদস্যরা আবেদন যাচাই-বাছাই করে ৪৫ জনের নাম জেলা পর্যায়ে পাঠান। পরে সেখান থেকে ১৫ জনের নাম চূড়ান্ত করা হয়।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত নিয়োগ তালিকায় রয়েছেন টাঙ্গাইল-৭ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকীর আপন ভাতিজা ও পৌর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মো. মেহেদী হাসান সিদ্দিকী। এ ছাড়া উয়ার্শী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হায়দার আলীর ছেলে আলিফ, বানাইল ইউনিয়নে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাফার স্ত্রী আফরোজা সীমা এবং আনাইতারা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ইমরান খানও ডিলারশিপ পেয়েছেন।

তালিকায় আরও রয়েছেন বহুরিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি লাজলু মিয়া, ভাওড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ফারুক হোসেন সম্রাটের ছেলে জুবায়েদ হাসান পিপু, মহেড়া ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক শহিদুর রহমান, আজগানা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন এবং লতিফপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আফজালুর রহমান দুলালের ছেলে গোলাম রব্বানী। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, তালিকায় স্থান পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সংখ্যাই বেশি।

জেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, টাঙ্গাইলের ১২টি উপজেলায় সার ডিলার নিয়োগের জন্য আবেদন করেছিলেন ১ হাজার ২৭৭ জন। যাচাই-বাছাই শেষে ৩৯০ জনের নাম মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। সেখান থেকে ১৩১ জনকে চূড়ান্ত নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন, অর্থ লেনদেনের অভিযোগ

ডিলারশিপ না পাওয়া আবেদনকারীদের অভিযোগ, যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। এ ক্ষেত্রে আর্থিক লেনদেন হয়ে থাকতে পারে। তাঁরা নতুন করে তালিকা প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন।

ডিলারশিপের জন্য আবেদন করা মির্জাপুর উপজেলা গণঅধিকার পরিষদের সদস্যসচিব সোহেল তাজ বলেন, তিনি যথাযথ প্রক্রিয়ায় আবেদন করেছিলেন। কিন্তু ডিলারশিপ পাননি। তাঁর অভিযোগ, দলীয় লোকজনকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নিয়োগে আর্থিক লেনদেন হয়ে থাকতে পারে।

তবে ডিলারশিপ পাওয়া সংসদ সদস্যের ভাতিজা ও পৌর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মেহেদী হাসান সিদ্দিকী বলেন, সব প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই তিনি ডিলারশিপ পেয়েছেন। সরকারি নিয়ম মেনেই আবেদন করেছিলেন। এর আগে তাঁর কোনো সার ডিলারশিপ ছিল না। পৌরসভায় পাঁচজন আবেদন করেছিলেন। যাচাই-বাছাইয়ের পর তিনি নির্বাচিত হয়েছেন।

আনাইতারা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ইমরান খান বলেন, তিনি যথাযথভাবে আবেদন করেছেন। নিজেও একজন ব্যবসায়ী। আগে তাঁর কোনো সার ডিলারশিপ ছিল না, অন্য ব্যবসা ছিল।

যা বলছে স্থানীয় প্রশাসন

এ বিষয়ে উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জহিরুল আলম বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কর্মকর্তাদের দিয়ে যাচাই-বাছাই করানো হয়েছে এবং তাঁদের মতামতের ভিত্তিতেই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যে প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে হয়েছে। তাড়াহুড়োর কারণে কিছু ঘাটতি থাকতে পারে। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় সংসদ সদস্যের মতামতও ছিল এবং তিনি নিজেও উপস্থিত ছিলেন। সভায় অন্য কর্মকর্তারাও ছিলেন।

উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সদস্যসচিব ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদা খাতুন বলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য ও কমিটির সদস্যদের সমন্বয়ে নামের তালিকা করা হয়েছে। গোডাউনসহ প্রয়োজনীয় সব বিষয় যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। কে বিএনপি করেন, কার ছেলে বা কে কোন দলের—এসব বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। কমিটির কেউ আর্থিক লেনদেন করেননি।

জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সদস্যসচিব এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আশেক পারভেজ বলেন, সার ডিলার নিয়োগে সরকারি নীতিমালা ও পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে। উপজেলা থেকে যাচাই-বাছাই করে তালিকা পাঠানোর পর জেলা পর্যায়ে তা পর্যালোচনা করা হয়। যাঁদের যোগ্য মনে হয়েছে, তাঁদের নাম মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। পরে মন্ত্রণালয় চূড়ান্ত নিয়োগ দিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, দলীয় পদ এক বিষয়, আর ডিলারশিপ পাওয়া আরেক বিষয়। যে কেউ আবেদন করতে পারেন। সংশ্লিষ্ট এলাকার সংসদ সদস্য অভিভাবক হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারেন। তবে কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে তা তদন্ত করা হবে।

স্থানীয় সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী বলেন, আবেদনকারীদের আবেদন যাচাই-বাছাই করেই চূড়ান্ত করা হয়েছে। এতে তাঁর কোনো হস্তক্ষেপ ছিল না। বেশির ভাগ আবেদনকারীই তাঁদের দলের লোক। যাঁকে দেওয়া হবে, তিনিই তাঁদের লোক। নিয়োগে কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সূত্র: জাগোনিউজ​

মন্তব্য (0)

সাইন-ইন

মন্তব্য প্রকাশের আগে মডারেশন পাস করবে।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!

সর্বশেষ
জনপ্রিয়