Morning Times
সাম্প্রতিক
সদ্যসৌদি থেকে ৯ মাসে এসেছে ২ হাজার মরদেহ, অনেকে জানেন না সন্তানের বাবা কে? সদ্যইসরাইলের নির্বাচনে এগিয়ে নেতানিয়াহু, সংখ্যাগরিষ্ঠতা অনিশ্চিত সদ্যলিবিয়ার বন্দিশালা থেকে ফিরছেন আরও ১৭২ বাংলাদেশি সদ্যদেশ মাফিয়া রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে, সন্ত্রাসী-মন্ত্রীর হাতে অস্ত্র : নাহিদ ইসলাম সদ্যবিমানবন্দরে যাত্রীর প্যান্টে মিলল ২৪ কোটি টাকার তরল সোনা সদ্যঅবশেষে ৩ ম্যাচ নিষিদ্ধ হলেন নেইমার সদ্যরাত পোহালেই ভোটের লড়াইয়, কে হাসবে—বিএনপি না জামায়াত সদ্যসরকারি বেতন দিতে ৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিচ্ছে সরকার সদ্যহাসিনার পতনের আগে ইউনূসকে দায়িত্ব নিতে বলার নেপথ্যে কে, জানালেন শফিকুল আলম সদ্যনেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করতে বিরোধী জোটকে হাত বাড়াল আরব দলগুলো সদ্যসৌদি থেকে ৯ মাসে এসেছে ২ হাজার মরদেহ, অনেকে জানেন না সন্তানের বাবা কে? সদ্যইসরাইলের নির্বাচনে এগিয়ে নেতানিয়াহু, সংখ্যাগরিষ্ঠতা অনিশ্চিত সদ্যলিবিয়ার বন্দিশালা থেকে ফিরছেন আরও ১৭২ বাংলাদেশি সদ্যদেশ মাফিয়া রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে, সন্ত্রাসী-মন্ত্রীর হাতে অস্ত্র : নাহিদ ইসলাম সদ্যবিমানবন্দরে যাত্রীর প্যান্টে মিলল ২৪ কোটি টাকার তরল সোনা সদ্যঅবশেষে ৩ ম্যাচ নিষিদ্ধ হলেন নেইমার সদ্যরাত পোহালেই ভোটের লড়াইয়, কে হাসবে—বিএনপি না জামায়াত সদ্যসরকারি বেতন দিতে ৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিচ্ছে সরকার সদ্যহাসিনার পতনের আগে ইউনূসকে দায়িত্ব নিতে বলার নেপথ্যে কে, জানালেন শফিকুল আলম সদ্যনেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করতে বিরোধী জোটকে হাত বাড়াল আরব দলগুলো
ট্রেন্ডিং ক্রিকেট চলচ্চিত্র জলবায়ু ফুটবল শিক্ষানীতি শেয়ারবাজার
মর্নিং টাইমস ডেস্ক ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ৫:৫৮ পিএম
আপডেট: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ৭:১৯ পিএম

সৌদি থেকে ৯ মাসে এসেছে ২ হাজার মরদেহ, অনেকে জানেন না সন্তানের বাবা কে?

সৌদি থেকে ৯ মাসে এসেছে ২ হাজার মরদেহ, অনেকে জানেন না সন্তানের বাবা কে?
ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরব বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ শ্রমবাজার ও রেমিট্যান্সের প্রধান উৎস। দেশটিতে কর্মরত লাখো বাংলাদেশির পাঠানো অর্থ দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে বিপুল এই রেমিট্যান্সের আড়ালে বাংলাদেশি কর্মীদের নির্যাতন, শোষণ, রহস্যজনক মৃত্যু ও আইনি জটিলতার অভিযোগও বারবার সামনে আসছে। নতুন করে দুই বাংলাদেশি নজরুল ইসলাম ও সুইটি আক্তারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় প্রবাসীদের নিরাপত্তা এবং তাঁদের সুরক্ষায় রাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ধর্মীয় ও অর্থনৈতিক—দুই দিক থেকেই সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু দেশটিতে কর্মরত বাংলাদেশিদের অধিকার রক্ষা, নির্যাতনের অভিযোগের প্রতিকার এবং আইনি সহায়তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বিদ্যমান ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স পেয়েছে সৌদি আরব থেকে। দেশটি থেকে এসেছে ৫ দশমিক ৮৫ বিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ৩৭ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি। বাংলাদেশের মোট রেমিট্যান্সের ১৬ দশমিক ৪ শতাংশ এসেছে সৌদি আরব থেকে।

তবে রেমিট্যান্সের এই প্রবাহের বিপরীতে দেশটিতে বাংলাদেশি কর্মীদের ওপর নির্যাতন ও শোষণের অভিযোগও রয়েছে। বিশেষ করে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর এবং এ বিষয়ে বাংলাদেশ দূতাবাসের কিছু না জানার অভিযোগ নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একই সঙ্গে প্রবাসীদের নিরাপত্তায় রাষ্ট্রের উদ্যোগ ও কূটনৈতিক তৎপরতার কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

সৌদি আরবে বাংলাদেশি শ্রমিকদের নির্যাতনের অভিযোগ শুধু শারীরিক নির্যাতনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। কর্মক্ষেত্রে শোষণ, বেতন আটকে রাখা, অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা, খাবার না দেওয়া, পাসপোর্ট কেড়ে নেওয়া, নিয়োগকর্তার হুমকি এবং আইনি প্রতিকার পেতে জটিলতার অভিযোগও রয়েছে।

এসব ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন নারী কর্মীরা। তাঁদের নির্যাতনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে মানবাধিকারকর্মী ও অভিবাসন অধিকার বিশেষজ্ঞ এম রায়হান কবির একটি ঘটনার কথা বলেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সন্তান কোলে দেশে ফেরা এক নারী জানিয়েছিলেন, তিনি সন্তান জন্ম দিলেও সন্তানের পিতৃপরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত নন। তাঁর অভিযোগ ছিল, নিয়োগকর্তা, নিয়োগকর্তার ছেলে, বন্ধু কিংবা গাড়িচালকের মাধ্যমে তিনি যৌন নির্যাতনের শিকার হয়ে থাকতে পারেন। এ ধরনের ঘটনা প্রায়ই ঘটে বলে দাবি করেন রায়হান কবির।

ব্র্যাকের অভিবাসন বিভাগের প্রধান শরিফুল হাসানের অভিযোগ, সৌদি আরব থেকে নির্যাতনের শিকার হয়ে শত শত নারী দেশে ফিরছেন। অনেকে ফিরেছেন লাশ হয়ে। কিন্তু এসব ঘটনার কারণ অনুসন্ধান, তদন্ত, দায় নির্ধারণ এবং পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে কার্যকর উদ্যোগের ঘাটতি রয়েছে।

শরিফুল হাসান বলেন, শ্রীলঙ্কা ও নেপালের মতো দেশ নারী কর্মীদের নিরাপত্তার প্রশ্নে সৌদি আরবে কর্মী পাঠানো বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এ ধরনের কঠোর অবস্থান বা কার্যকর প্রতিবাদের নজির নেই বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এক দশকে শারীরিক ও যৌন নির্যাতনসহ নানা ধরনের সহিংসতার শিকার হয়ে ১০ হাজার নারী দেশে ফিরেছেন।

ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের তথ্য অনুযায়ী, গত সাত বছরে অন্তত ৭০ হাজার নারী বিদেশ থেকে দেশে ফিরেছেন। তাঁদের একটি অংশ নিপীড়নের শিকার। একই সময়ে বিদেশ থেকে দেশে এসেছে নারী কর্মীদের অন্তত ৮০০ মরদেহ।

ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নয় মাসে সৌদি আরবে প্রায় দুই হাজার বাংলাদেশি কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে, ২০২৫ সালে বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে সাত লাখ ৫০ হাজারের বেশি কর্মী পাঠানো হয়েছে। দেশটিতে বর্তমানে আনুমানিক ৩০ থেকে ৩৫ লাখ বাংলাদেশি বসবাস করছেন।

এত বড় শ্রমবাজার এবং বিপুলসংখ্যক কর্মীর বিপরীতে তাঁদের সুরক্ষায় রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ, দূতাবাসের জনবল ও সক্ষমতা এবং জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

সাংবাদিক মাসুদ কামাল বলেন, প্রবাসী শ্রমিকেরা তাঁদের কষ্টার্জিত অর্থ দেশে পাঠিয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখেন। অথচ তাঁদের অনেককেই দূতাবাসে গিয়ে অসহযোগিতা ও দুর্ব্যবহারের মুখোমুখি হতে হয়। তাঁর অভিযোগ, কূটনৈতিক প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে দক্ষ জনবল থাকলেও সাধারণ শ্রমিকদের সমস্যা সমাধানে সেই দক্ষতার যথাযথ প্রয়োগ দেখা যায় না।

অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, রেমিট্যান্সকে জাতীয় অর্থনীতির শক্তি হিসেবে বিবেচনা করার পাশাপাশি যাঁরা এই অর্থ পাঠাচ্ছেন, তাঁদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষাকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। বিদেশে কোনো বাংলাদেশি বিচার বা শাস্তির মুখোমুখি হলে তাঁর আইনি অধিকার ও যথাযথ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রের কী ভূমিকা থাকা উচিত, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

নজরুল ইসলাম ও সুইটি আক্তারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা সেই প্রশ্নকে আরও সামনে এনেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রবাসীদের আইনি সহায়তা, তাঁদের মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ এবং প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে দূতাবাসের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

প্রবাসীদের সুরক্ষায় রাষ্ট্রকে আরও আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তাঁদের মতে, বিদেশে কোনো কর্মী বিপদে পড়ার পরই শুধু কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করলে চলবে না; বরং আগে থেকেই কার্যকর সুরক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

প্রবাসীদের পাঠানো অর্থের হিসাব যেমন রাষ্ট্রের কাছে গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি তাঁদের জীবন, নিরাপত্তা ও অধিকারও সমান গুরুত্ব পাওয়ার দাবি রাখে। এ জন্য বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশি দূতাবাসগুলোর জনবল ও সক্ষমতা বাড়ানো, অভিযোগ গ্রহণ ও প্রতিকারের ব্যবস্থা কার্যকর করা এবং নির্যাতন ও মৃত্যুর ঘটনাগুলোর যথাযথ অনুসন্ধান নিশ্চিত করার ওপর জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

তাঁদের মতে, সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা শুধু দুটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি বাংলাদেশের অভিবাসন ব্যবস্থাপনা, কূটনৈতিক সক্ষমতা এবং প্রবাসীদের অধিকার সুরক্ষায় রাষ্ট্রীয় প্রস্তুতি নিয়ে বৃহত্তর আলোচনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। শ্রমবাজার ও রেমিট্যান্সের প্রবাহ বজায় রাখার পাশাপাশি প্রবাসীদের জীবন ও অধিকার রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়াও জরুরি। সূত্র: সময় টিভি

মন্তব্য (0)

0%
15.4%
15.4%
★69.2%
সাইন-ইন

মন্তব্য প্রকাশের আগে মডারেশন পাস করবে।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!

সর্বশেষ
জনপ্রিয়