দেশ মাফিয়া রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম। তাঁর অভিযোগ, বর্তমান সরকারের আমলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সম্পূর্ণ অবনতি হয়েছে এবং বিচারব্যবস্থা ক্ষমতাসীনদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
বুধবার ঢাকা বিভাগ দক্ষিণ অঞ্চলের নেতাদের সঙ্গে দলের মতবিনিময় সভার শুরুতে গণমাধ্যমকর্মীদের ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম।
তিনি বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কতটা খারাপ হলে নিজের দলের লোককে নিজেরা হত্যা করছে? এর বিচার হবে কি না, সেটাই আমার কাছে বড় প্রশ্ন।’ বিচারব্যবস্থার সংস্কার না হওয়ায় তা এখনো ক্ষমতাসীনদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
নাহিদ ইসলামের অভিযোগ, সারা দেশে বিএনপির ছত্রচ্ছায়ায় দলটির ক্যাডার বাহিনী নিজেদের দলের লোকজনকে হত্যা করছে এবং সাধারণ মানুষের ওপর নির্যাতন-নিপীড়ন চালাচ্ছে।
সরকারকে সতর্ক করে তিনি বলেন, ‘আমরা যদি এই সরকারকে ছাড় দিয়ে দিই, তবে এমনও হতে পারে যে আমাদের আরেকটি ফ্যাসিবাদ মোকাবিলা করতে হবে। আমরা চাই না যে ১ হাজার ৪০০ মানুষের রক্ত ও জীবন দিয়ে আরেকটি ফ্যাসিবাদ উৎখাত করতে হোক।’
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, তাঁরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরপেক্ষ ও শক্তিশালী ভূমিকা প্রত্যাশা করেছিলেন। কিন্তু আইজিপি ক্রসফায়ার নিয়ে কথা বলছেন এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নেতৃত্ব দিতে ব্যর্থ হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘দেশের যেসব মাদকের স্পট নির্ধারিত হয়েছে, সেগুলোর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। বাংলাদেশ আসলে একটা মাফিয়া রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। একদিকে সন্ত্রাসীদের হাতে অস্ত্র, অন্যদিকে মন্ত্রীদের হাতেও অস্ত্র।’
মাদক নিয়ন্ত্রণ নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেন এনসিপির আহ্বায়ক। তাঁর অভিযোগ, সরকার মাদকের গডফাদার ও সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করছে না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নিজের এলাকা কক্সবাজার থেকে সবচেয়ে বেশি মাদক চোরাচালান হয় বলেও দাবি করেন তিনি। অথচ মাদক চোরাচালান বন্ধে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছেন না বলে মন্তব্য করেন নাহিদ ইসলাম।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেন তিনি। নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হবে—এখন পর্যন্ত আমাদের তা মনে হচ্ছে না।’ সরকারি দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে বহু মানুষ হতাহত হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
এ ছাড়া নির্বাচন কমিশন ও পুলিশ প্রশাসন দলীয়করণের শিকার হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন এনসিপির আহ্বায়ক। তাঁর মতে, এ পরিস্থিতিতে সুষ্ঠুভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব নয়।
মতবিনিময় সভায় এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব ও রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য সারজিস আলম, রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য আরিফুল ইসলাম আদীবসহ ফরিদপুর, মাদারীপুর, শরীয়তপুর, গোপালগঞ্জ ও রাজবাড়ী জেলার শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সৌদি থেকে ৯ মাসে এসেছে ২ হাজার মরদেহ, অনেকে জানেন না সন্তানের বাবা কে?